প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নতুন শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেও ইসলামাবাদের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফিলিস্তিন প্রশ্নে দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কাশ্মীর ইস্যুর সঙ্গে কূটনৈতিক সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাই এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের পাসপোর্টে বহু দশক ধরে একটি উল্লেখযোগ্য বাক্য লেখা থাকে—“বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, তবে ইসরায়েল ব্যতীত।” এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানের অন্যতম মৌলিক পররাষ্ট্রনীতি।
সম্প্রতি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবেও তিনি এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তবে পাকিস্তান দ্রুতই এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উদ্যোগে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং কাউকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করতে দেখা যায়নি।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানের সব সরকারই বলে এসেছে, স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। পাকিস্তানের দাবি, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি পুনরায় একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি না হলে পাকিস্তান আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল পররাষ্ট্রনীতি নয়; বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। দেশটিতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল, ইসলামপন্থী সংগঠন, সংসদ, নাগরিক সমাজ এবং শক্তিশালী গণমাধ্যম—সবাই ফিলিস্তিন প্রশ্নে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল ফর রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্সের প্রধান মুহাম্মদ ইসরার মাদানির মতে, উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর তুলনায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশ অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে কোনো উদ্যোগ তীব্র জনবিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।
এ ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুও পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরকে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান ছাড়াই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের অভিমত, বর্তমান আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় পাকিস্তানের জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া কিংবা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত হবে। তাই নিকট ভবিষ্যতে ইসলামাবাদের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত।