কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘হতাশার কারণেই সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করে’ চুক্তিটি করিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে
চুক্তি হলেও পারমাণবিক ইস্যুতে তাদের সব শর্ত মানবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের
মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এই প্রথম
প্রতিক্রিয়া জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। খবর বিবিসি/ তাসনিম নিউজ এজেন্সির।
মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া
‘ইরান জাতির অধিকার রক্ষার’ আশ্বাসের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মতি
দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে নিজের ‘ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ রয়েছে বলে উল্লেখ করলেও তা নিয়ে বিস্তারিত
কিছু বলেননি তিনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির বক্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব
না দিলেও, সামাজিক মাধ্যম সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি আশা করছেন ইসরায়েল ও লেবাননের ইরান-সমর্থিত
হেজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধসহ ‘সব ফ্রন্টে’ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো
‘আমাদের আলোচনার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি
মোজতবা খামেনি বলেন, আগামী ৬০ দিনে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা
করতে রাজি হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ভবিষ্যৎ সংলাপে ওয়াশিংটনের সব শর্ত মেনে নেবে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বলেন, ইরানের পারমাণবিক উপকরণ
দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় ইউরেনিয়াম ডিলিওশন (নিম্ন
মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ) করার বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
ইরান-মার্কিন সমঝোতা স্মারক নিয়ে পর্যবেক্ষকরা জানান, ইরান আলোচনার
দরজা খোলা রাখলেও পারমাণবিক কর্মসূচি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিজেদের
অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে
প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ
করা হয়েছে। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ
প্রণালীতে সার্ভিস ফি-এর মতো বেশ কয়েকটি জটিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা
ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি।
মার্চ মাসে দায়িত্ব নিলেও তাকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভবিষ্যতে
‘সরাসরি আলোচনা’ হলেও, এর অর্থ এই নয় যে তারা ‘শত্রুর অবস্থান মেনে নিয়েছেন।’
১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে মার্কিন-ইরান চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে
মনে করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছেÑ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের কখনোই পারমাণবিক
অস্ত্র না থাকার বাধ্যবাধকতা এবং দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০
বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন, যদিও এই তহবিলে অর্থ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের
ওপর বাধ্যবাধকতা নেই। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষই ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে
পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই সমালোচনা শুরু
হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন তহবিলের সংস্থান রাখার বিষয়ে চরম অসন্তুষ্ট
রিপাবলিকানরা। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই চুক্তিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে
বড় বৈদেশিক নীতি সংক্রান্ত ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা
দমন করা যায়নি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে হুমকি দেওয়া কতটা কার্যকর সেটিও তারা শিখেছে।