× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

ভেস্তে যেতে পারে তিন কারণে

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

তিন কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

তিন কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানো কতটা জটিল হবেÑ সেই চ্যালেঞ্জগুলোর দিকেই এখন দৃষ্টি যাচ্ছে।

চুক্তিটি আজ শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এই চুক্তিতে সই করেছেন বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে।

খবরে বলা হয়েছে, সমঝোতার পর এখন ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে এবং পারস্পরিক সম্মতিতে সময় বাড়ানোও যাবে। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করা এবং ইরানের ওপর ‘সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা শুরু করার অঙ্গীকার রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি) তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের পক্ষ থেকে পুনরায় অঙ্গীকার করা হয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

তবে ইসরায়েলসহ অন্তত তিনটি প্রধান কারণে এই চুক্তি কোনো এক সময় ভেস্তে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব বিষয় আলোচনাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে সেগুলো আলোচনা করা হলো।

১. ইসরায়েলের লেবানন অভিযান

চুক্তিতে উভয় পক্ষ ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার’ ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল এই বিষয়টি মানছে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী লেবাননে হামলা চালিয়েই যাচ্ছেন। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সে জি-সেভেন সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘লেবাননের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার’ কথা বললেও হামলা বন্ধ হয়নি।

গত বুধবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে হামলা চালিয়েছে বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, যদিও লেবানন যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যে রয়েছে, তবুও লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এই চুক্তির শর্ত নয়। ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে। কিন্তু ইরান বলেছে, লেবাননের যুদ্ধের অবসান ‘যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহও এই অবস্থান সমর্থন করেছে। হেজবুল্লাহর জনসংযোগ দপ্তর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরান তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, আলোচনার পরবর্তী ধাপে তারা লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাবে।

ইসরায়েলও স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা এই চুক্তি সম্পর্কে ইরানের ব্যাখ্যায় নিজেদের বাধ্য মনে করে না। ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখলে শান্তিচুক্তি ভেস্তে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। 

শান্তি প্রচেষ্টায় ইসরায়েল প্রধান ‘বাধাদানকারী’ হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংস্থা রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এইচএ হেলিয়ার।

তিনি যুক্তি দেন, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, তা ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হোক বা লেবাননে চলমান ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে হোক, কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য এটা সবচেয়ে বড় একক হুমকি। তেহরান সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে ‘পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে প্রকৃতপক্ষে আলোচনা শুরুর আগেই’ প্রক্রিয়াটি ভেঙে পড়তে পারে। 

২. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি

আরেকটি জটিল বিষয় হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, যদিও ট্রাম্প বলেছেন এটি জব্দ করার কোনো তাড়াহুড়া নেই। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত ইরান প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম জমা করেছিল। একটি পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধির মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশ হয়।

তেহরান ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং চুক্তিতে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে বিদ্যমান সমৃদ্ধ পদার্থের ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবেÑ এটাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এখনও একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে জমাকৃত সমৃদ্ধ পদার্থ কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সম্মত হয়েছে।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে, যা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় আলোচনা হয়েছিল, তেহরান সমৃদ্ধি ৩.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত সীমিত রেখেছিল। ২০১৮ সালে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর এ মুহূর্তে, ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষ ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেকোনো সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে। 

৩. হরমুজ প্রণালি

সমঝোতা চুক্তিটির লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যা ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে আছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ৬০ দিনের জন্য প্রণালিটি ‘পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং এর বিপরীত দিকেও’ টোলমুক্ত থাকবে।

আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক পরিষেবা নিয়ে ওমানসহ অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে ইরান। এর ফলে ভবিষ্যতে কিছু ফি আরোপের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত হতে পারে।

তেহরান ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, প্রণালি পরিচালনায় তারা আরও বড় ভূমিকা চায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, প্রণালি  দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে তারা সেবা ফি নেবে। তবে এসব ফি কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করবে তা স্পষ্ট নয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার পর প্রণালিটি টোলমুক্তই থাকবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান তাদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইতে পারে, কিন্তু উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এমন কোনো ব্যবস্থা মেনে নেবে না, যা টোলমুক্ত প্রবেশাধিকার সীমিত করে।

ইরান ‘সাধারণ বিবেচনাবোধ’ ব্যবহার করবে এবং ফি আরোপ করবে না। কারণ এমন পদক্ষেপ আরও সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফি আরোপ ও তা আদায় নিয়ে পরিস্থিতি যেকোনো সময় উত্তপ্ত হতে পারে। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা