× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভারত থেকে বাঙালি মুসলিমদের জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ ১৯:১২ পিএম

আপডেট : ২২ ঘণ্টা আগে

রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে খোলা আকাশের নিচে পুশইনের শিকার নারী-শিশুসহ ৯ জন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে খোলা আকাশের নিচে পুশইনের শিকার নারী-শিশুসহ ৯ জন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী জাতিগত বাঙালি, বিশেষ করে মুসলিমদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলেও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের ‘শূন্য রেখায়’ মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে।

এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার এমনটাই অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বলা হয়, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে বিএসএফের অন্তত ২১টি ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে, বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে বিজেপি সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে’ আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে ‘ফিরে যেতে’ বাধ্য করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বা সীমান্তে ফেলে রাখছে, যা তাদের মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থি। সরকারকে অবিলম্বে এসব বেআইনি বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে”।

সীমান্তে টানা ৭৫ ঘণ্টা আটকে পরিবার

বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দারা জানান, ৫ জুন বিএসএফ ১০ জনের একটি দলকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবি বাধা দিলে তারা দুই দেশের মাঝামাঝি ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডে’ অবস্থান নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন জানান, প্রথম রাতেই তারা প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ছিল। পরদিন বিএসএফ তাদের কিছু শুকনো খাবার সরবরাহ করে।

তিনি বলেন, “ঘটনাটি কার্যত যুদ্ধাবস্থার মতো ছিল। দুই বাহিনীর একাধিক পতাকা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে বিএসএফ দলটিকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়”।

বাধ্য হয়ে সীমান্তে রাত কাটাচ্ছে নারী ও শিশুসহ পরিবার

৬ জুন ভোরে বিএসএফ দুই বাঙালি মুসলিম পরিবারের ছয় সদস্যকে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়, আবার বিএসএফও ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে দেয়নি। ফলে পরিবারগুলোকে রাতভর খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয়। পরে তাদের ভারতে ফিরতে দেওয়া হয়।

৮ জুন একইভাবে এক গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে থাকার পর বিএসএফ ফেরত নিয়ে যায় বলে জানায় বিজিবি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক

মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ৯০ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বহু মানুষ আটক ও বহিষ্কারের আশঙ্কায় পড়েছেন।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি এইচআরডব্লিউকে জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাদের কাছে ভারতের আধার কার্ড ছিল। কিন্তু ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর পুলিশ তাদের আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেয় বলে তারা অভিযোগ করেন। পরিবারটির একজন সদস্য আগে চারবার ভোট দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

আসামেও একই ধরনের অভিযোগ

ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে আখ্যায়িত করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, “আমরা তাদের সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে যাই এবং আক্ষরিক অর্থেই সীমান্তের ওপারে ঠেলে দিই”।

মানবাধিকার কর্মীদের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে প্রায় ৪০০ জন আটক রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই মুসলিম হলেও কিছু হিন্দুও রয়েছেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, নাগরিকত্ব যাচাই বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা ভারতের বাধ্যবাধকতা। কোনো ব্যক্তিকে যথাযথ শুনানি, আইনগত সহায়তা এবং আপিলের সুযোগ না দিয়ে বহিষ্কার করা মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।

সংস্থাটি আরও বলেছে, খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসা ছাড়া সীমান্তে মানুষকে ফেলে রাখা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শামিল হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সীমান্তে আটকে রাখা তাদের অধিকার লঙ্ঘন করে।

বাংলাদেশ সরকারও জানিয়েছে, নিয়মিত কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া সীমান্তে কাউকে ঠেলে দিলে তাদের গ্রহণ করা হবে না। উভয় দেশের মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষায়, “কোনো মানুষকেই দুই দেশের সশস্ত্র সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। মানবিক মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের বহিষ্কার অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন”।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা