৫ মিটার লম্বা একটি মৃত অ্যান্টার্কটিক মিঙ্কে তিমির দেহাবশেষ। ছবি: লাইভ সায়েন্স
মহাসাগরের অন্ধকার তলদেশে এক অদ্ভুত বাস্তুতন্ত্রের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ডায়াম্যান্টিনা পরিখায় আবিষ্কৃত হয়েছে বিশাল এক প্রাচীন ‘তিমির সমাধিক্ষেত্র’।
এখানকার কিছু জীবাশ্ম প্রায় ৫৩ লাখ বছরের পুরনো। সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ এই বিস্ময়কর আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে। খবর দ্য কনভারসেশনের।
চীনা অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক জিয়াওটং পেংয়ের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীদের একটি দল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেনদউজে নামের ডুবোজাহাজ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। প্রথমবার এই সমাধিক্ষেত্র নজরে আসার পর তারা আরও ৩২ বার তলদেশে ডুব দেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৭ হাজার মিটার গভীরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই সমাধিক্ষেত্রের বিস্তৃতি।
গবেষকেরা সেখান থেকে ৪৭৬টি তিমির জীবাশ্ম ও সদ্য মৃত পাঁচটি তিমির দেহাবশেষ শনাক্ত করেছেন। এদের ঘিরে জেলিফিশ, হাড়খেকো পোকা ও তারামাছের মতো বিচিত্র সব গভীর সমুদ্রের প্রাণীর এক অদ্ভুত বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে, যার অনেকগুলোই বিজ্ঞানের কাছে একেবারেই নতুন।
উদ্ধার করা ৪৩টি জীবাশ্ম পরীক্ষা করে গবেষকেরা অন্তত পাঁচ প্রজাতির ঠোঁটওয়ালা তিমির সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আবিষ্কারটি হলো ৫ মিটার লম্বা একটি মৃত অ্যান্টার্কটিক মিঙ্কে তিমি। পাশাপাশি বিলুপ্ত প্রজাতির তিমির খোঁজও মিলেছে।
এত বিপুলসংখ্যক তিমির মৃতদেহ এক জায়গায় জড়ো হওয়ার কারণ হিসেবে ওই অঞ্চলের সমুদ্রতলের ‘ভি’ আকৃতির ভৌগোলিক গঠনকে দায়ী করছেন গবেষকেরা। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার শুধু তিমির বিবর্তন সম্পর্কেই নতুন তথ্য দিচ্ছে না; বরং গভীর সমুদ্র সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যে এখনও কত সীমিত, সেটিও নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।