প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
ইলন মাস্ক। ছবি: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটে শুক্রবার যখন ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স আনুষ্ঠানিকভাবে লেনদেন শুরু করে, তখন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার (এক লাখ কোটি ডলারের মালিক) হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান এই বিতর্কিত প্রযুক্তি টাইকুন।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের এই রেকর্ড ভাঙা ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংয়ের (আইপিও) ঘোষণার আগে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে স্পেসএক্স তাদের ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে বিক্রি শুরু করার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। এই রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোম্পানিতে মাস্কের ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
এক ট্রিলিয়ন ডলারের পরিমাণ এতই বিশাল যে, তা মানুষের সাধারণ কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা অক্সফামের মতে, ইলন মাস্ক যদি প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার করে খরচ করেন, তবু তার এই বিপুল সম্পদ শেষ হতে ২ হাজার ৭৪০ বছর সময় লাগবে। ইতোমধ্যেই মাস্ক বিশ্বের শীর্ষ ধনীর মুকুট পরে আছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের চেয়ে মাস্কের সম্পদ তিন গুণেরও বেশি হবে।
শুধু বর্তমান সময়ের নিরিখেই নয়, মাস্ক হতে চলেছেন সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। উনিশ শতকের শিল্প যুগের ধনকুবের জন ডি রকফেলার বা অ্যান্ড্রু কার্নেগির সম্পদের অনুপাত বিবেচনা করলে দেখা যায়, রকফেলারের সম্পদ সেসময়ের যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশের সমতুল্য ছিল। কিন্তু ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পর মাস্ক একাই যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের সমতুল্য সম্পদের মালিক হবেন।
উনিশ শতকের শিল্পপতিদের মতো মাস্কও রাজনীতিতে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে তিনি শুধু অর্থই দেননি, বরং সরকার পরিচালনায়ও প্রভাব বিস্তার করেছেন। অর্থনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদরা মনে করছেন, মাস্কের এই অভূতপূর্ব সম্পদ বৈশ্বিক অসমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।