× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা!

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

মমতা ব্যানার্জিকে কংগ্রেসের সহসভাপতির পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। ছবি: এনডিটিভি

মমতা ব্যানার্জিকে কংগ্রেসের সহসভাপতির পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। ছবি: এনডিটিভি

রাজনীতির লাইফ লাইন টিকিয়ে রাখতে শেষ পর্যন্ত সর্বভারতীয় কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা ব্যানার্জি। কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী মমতার রাজনৈতিক বিপর্যয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনিই মূলত তাকে কংগ্রেসে ফিরে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন। সোনিয়া গান্ধী তাকে কংগ্রেসের সহসভাপতির পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর এনডিটিভি। 

খবরে বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ নতুন মোড় নিচ্ছে। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের খারাপ ফল নিয়ে অসন্তোষ এবং দলে ভাঙনের পর দলটির একসময়ের কংগ্রেস নেতাদের পুরনো ঘরে ফেরা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। 

রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল আগেই মমতা ব্যানার্জির হাতছাড়া হয়েছে। লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হয়েছে তার। মমতা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক করতে দিল্লিতে থাকার মধ্যেই বিদ্রোহী তৃণমূল সংসদ সদস্যরা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান স্পিকারকে।

মমতা ব্যানার্জি এবং তার ভাতিজা অভিষেক এখনও দিল্লিতেই। গত মঙ্গলবার ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। বুধবার সকালে আবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে যান অভিষেক। দেড় ঘণ্টার সেই বৈঠক ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, মমতা-অভিষেক কি তাহলে তাদের পক্ষে থাকা তৃণমূলকে নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেবেন?

১৯৯৭ সালে যে কংগ্রেসের হাত ছেড়ে মমতা নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) গড়েছিলেন, শেষমেশ সেই কংগ্রেসেই কি ফিরছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী? 

রাজনীতিতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। গণমাধ্যমগুলোতে তৃণমূলের কংগ্রেসে বিলীন হয়ে যাওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠার পেছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে চলমান সংকটের মধ্যেও মমতার দিল্লিতে অবস্থান করার অস্বাভাবিক ঘটনাপ্রবাহ। পশ্চিমবঙ্গে যখন তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিদ্রোহ চলমান এবং স্থানীয় নেতা ও কাউন্সিলররা আক্রান্ত হচ্ছেন, ঠিক তখনই রাজ্য ছেড়ে মমতার দিল্লিতে অবস্থান করাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংকট বাংলায় হলেও তিনি দিল্লিতে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ২৯টি এবং রাজ্যসভায় ১২টি আসন নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি-বিরোধী জোটের তৃতীয় বৃহত্তম দল হওয়ার পরও, তৃণমূল এতদিন কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে আক্রমণ করেছে নিজস্ব কৌশলে।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক খুব খুব একটা ভালো ছিল না। গত কয়েক বছর এমনও অবস্থা ছিল যে, ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্বই মানতে অস্বীকার করছিলেন মমতা। কিন্তু মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার মুখোমুখি বৈঠক হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম। বৈঠকের বিষয়বস্তু ছিল ‘তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং জোটের রাজনীতি।’

বুধবার কংগ্রেসের মূল চালিকাশক্তি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেকের বৈঠকের পর, এদিনই আবার সোনিয়ার সঙ্গে মমতার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

মমতা টানা ১৫ বছর বা দেড় দশক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তার দল তৃণমূল সেখানে একচ্ছত্র শাসন উপভোগ করেছে। তৃণমূল নেতারা দুর্নীতি, জোরজুলুম, নিপীড়ন ও দমনের মাধ্যমে শাসন চালিয়েছিলেন এবং দলটিকে অপরাজেয় মনে হতো।

মমতা বাংলার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তার শক্তি এতটাই ছিল যে, তিনি তার এমপিদের জোরে জাতীয় রাজনীতিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের পর সবকিছু বদলে যায়। 

ইন্ডিয়া টুডে টিভির কলকাতা ব্যুরোর সিনিয়র এডিটর ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডু মঙ্গলবার জানান, অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে মমতাকে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিকল্প ‘পরামর্শ দেওয়া হয়েছে’ বলেই তিনি শুনেছেন। গত ৫ জুন ইন্ডিয়া টুডে টিভির সাহিল জোশীর সঙ্গে আলাপকালে শিবসেনা (ইউবিটি) এমপি সঞ্জয় রাউত বিজেপির আধিপত্য রুখতে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া সব দলকে আবার মূল দলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন, একটি শক্তিশালী কংগ্রেস বিরোধী জোটকে আরও ভালোভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে এবং বিজেপি ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ছোট আঞ্চলিক দলগুলোকে মুছে দিতে চায়। 

গত বুধবার এই বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলে। প্রবীণ সাংবাদিক প্রভু চাওলা এক্সে এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, ‘কংগ্রেস কি ডুবন্ত তৃণমূলকে বাঁচাতে ‘সেভ তৃণমূল কংগ্রেস’ মিশন শুরু করেছে? তিনি জানান, সোনিয়া গান্ধী মমতার সামনে দুটি প্রস্তাব রেখেছেন। তা হলো মমতাকে কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হবে এবং অভিষেককে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হবে।

মমতা এর জন্য সময় চেয়েছেন এবং আলোচনা সারারাত ধরে চলেছে। পরদিন অভিষেক রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করে ঘনিষ্ঠদের জানান বৈঠক ‘ভালো’ হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। দ্য হিন্দু পত্রিকা একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোনিয়া ও মমতার বৈঠকে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের কৌশল ও জোট রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা