সিরিয়ার দামেস্কে মঙ্গলবার একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পতিত হওয়ার ঘটনাস্থলে সামরিক প্রকৌশল দলের সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন হামলা এবং জর্ডানের আজরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির জারকা প্রদেশের আল-আজরাক এলাকার দিকে ছোড়া ইরানের পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করে ভূপাতিত করেছে।
সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ নিরাপদে অপসারণ এবং সেখানে কোনো বিস্ফোরক অবশিষ্ট আছে কি না তা নিশ্চিত করতে সামরিক প্রকৌশল দল মোতায়েন করা হয়েছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জোর দিয়ে বলেছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন থাকা কুয়েতও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। কুয়েতের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে আরও কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার জবাবে তারা ‘চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তার সম্পূর্ণ দায় ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা