নাজুক যুদ্ধবিরতির পর রবিবার রাতে ইসরায়েলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ছবি: আনাদলু
বৈরুতে হামলার জেরে রবিবার গভীর রাতে উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পর এটিই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম (আইআরআইবি) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, “ইসরায়েল যদি ইরানি হামলার জবাব দেয় বা লেবাননে তাদের হামলা বন্ধ না করে, তাহলে এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।”
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, হামলায় মোট ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে এক দফায় চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের তিবেরিয়াস শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া তেল আবিবের কাছে অবস্থিত বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমে জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে। পরে তারা দাবি করে, নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে।
আনাদোলু সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদকের মতে, হামলার সময় হাইফা ও নাজারেথ শহরের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
কান জানিয়েছে, হামলার পর সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেল আবিব এ হামলার জবাব দেবে।
চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে এক ইসরায়েলি নারী মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন। এছাড়া এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ইসরায়েলের পাল্টা জবাব না দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।”
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
গত ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটি ছিল বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের তৃতীয় হামলা। এর আগে ৬ মে ও ২৮ মে একই এলাকায় আরও দুটি হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
সূত্র: আনাদলু