× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চীনের প্রেসিডেন্ট শি কেন উত্তর কোরিয়ায়

প্রবা ডেস্ক

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফাইল ছবি: এপি

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফাইল ছবি: এপি

উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সোম ও মঙ্গলবার দুইদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে পিয়ংইয়ংয়ে সফরে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট শি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ক্রমাগত তার সফর কমিয়ে এনেছেন। এমনকি আজকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের মতো বিশ্ব নেতারাও সাধারণত তার কাছেই আসেন।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে বিশ্ব নেতারা শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতে চীনে যান, সেখানে হঠাৎ উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি। 

বিশ্লেষকদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে আল জাজিরা এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্লেষকরা বলেন, বিষয়টা এমন নয় যে তারা সাক্ষাৎ করছেন। মাত্র এক বছর আগেই বেইজিংয়ে এই দুই নেতার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মিত্রশক্তির কাছে জাপানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীন এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছিল।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং আল জাজিরাকে বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে যে শি জিনপিং আসলে খুব বেশি বিদেশ ভ্রমণ করেননি। বরং বিদেশি নেতারা তার সঙ্গে দেখা করতে বেইজিং যাচ্ছেন।”

শি জিনপিং যে নিজে পিয়ংইয়ং সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা থেকেই বোঝা যায় চীন এই সফরকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

এশিয়া সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, শি ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বছরে গড়ে প্রায় ১৪টি সফর করলেও ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা কমে বছরে প্রায় ছয়টিতে নেমে আসে। ২০২০ সালে তিনি মাত্র একটি দেশ সফর করেন। আর কোভিড মহামারির কারনে ২০২১ সালে তিনি কোনো দেশেই সফর করেননি।

উইলিয়াম ইয়াং বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি এখন ভ্রমণ করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা, ন্যাশনাল কমিটি অন নর্থ কোরিয়া- ২০২২ সালের একটি হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া তার বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল।

তবে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে এই গতিপ্রকৃতির পরিবর্তিত হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, কামান ও জনবল সরবরাহ করেছে। এ নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মতে, মস্কোর যুদ্ধের সরঞ্জাম সচল রাখতে সাহায্য করার কৃতিত্ব উত্তর কোরিয়াকেই দেওয়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির’ জানায়, ২০২৩ সাল থেকে মস্কো সৈন্য মোতায়েন, কামান, গোলা, এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির জন্য উত্তর কোরিয়াকে ১৪.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করেছে।

উত্তর কোরিয়ার ওপর রাশিয়ার প্রভাব ঠিক কতটা বিস্তৃত, সে বিষয়ে চীন সতর্ক থাকবে বলে মনে করেন সিউল-ভিত্তিক সাংবাদিক ও গবেষক লি সাং ইয়ং, যিনি পিয়ংইয়ংয়ের কার্যকলাপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।

শি জিনপিংয়ের সফর তিনি প্রসঙ্গে বলেন, “বেইজিং সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার ওপর নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং পিয়ংইয়ংকে মস্কোর দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া থেকে বিরত রাখতে চায়।”

উত্তর কোরিয়ার ওপর রাশিয়ার প্রভাব কমানোর একটি উপায় হতে পারে পিয়ংইয়ংয়ের জন্য নিজস্ব অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়ানো।

স্টিমসন সেন্টারের কোরিয়া প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল মিনইয়ং লি বলেন, “উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া” তাদের পরিকল্পনা হতে পারে।

কিন্তু চীন যে শুধু উত্তর কোরিয়ার ওপর রাশিয়ার প্রভাবের দিকেই কড়া নজর রাখবে বিষয়টি এমনও নয়।

ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়াং বলেন, যদিও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, তবুও দেশটি তাদের নতুন সামরিক প্রযুক্তির বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, “বেইজিং উত্তর কোরিয়াকে সামরিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে বরাবরই খুব সতর্ক, কারণ তারা সামরিকভাবে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়াকে তাদের অনুকূলে বলে মনে করে না।”

উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যম এবং মার্কিন নৌ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরের শুরু থেকে ইতিমধ্যে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে এবং মে মাসে একটি নতুন এআই-নির্দেশিত কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিমের একটি নতুন ছবিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় কিম “অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপকরণ” কারখানা পরিদর্শন করছে।

১৯৫০ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া কার্যত যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে, যদিও ১৯৫৩ সালের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাত স্থগিত করা হয়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আশা করে শিয়ের এই সফর “কোরীয় উপদ্বীপ সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে” – যা থেকে বোঝা যায় যে, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টায় সিউল হয়তো চীনা নেতার কাছে তদবির করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং গত মাসে আলাদাভাবে সাংবাদিকদের বলেছেন যে, তিনি আশা করছেন বছরের শেষের দিকে কিম ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা