× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত কিছু অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন দেশটির একটি আদালত। ফলে ৩৯টি দেশের অভিবাসীর রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড এবং বৈধ অভিবাসনসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার পথ সুগম হলো। 

রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল শুক্রবার এই রায় দেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) যেসব নীতি গ্রহণ করেছিল, তা এশীয়, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ডজনখানেক দেশের নাগরিকদের এক অনির্দিষ্টকালের আইনি অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কংগ্রেসের আইন মেনে অভিবাসীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা সত্ত্বেও ইউএসসিআইএস মাসের পর মাস ধরে তাদের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোনো সংবিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ছাড়াই এই নীতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। 

সংস্থাটি মূলত অভিবাসনবিরোধী মনোভাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 

বিচারক ম্যাককনেল তার পর্যবেক্ষণে আরও যুক্ত করেন, এই আবেদনগুলো আটকে থাকার পেছনে আবেদনকারীদের কোনো ভুল ছিল না, বরং তাদের জন্মস্থান কোন দেশে—কেবল সেই পরিচয়ের কারণেই তাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে বেশ কিছু অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা দায়ের করে। আদালতের এই রায়কে সেই জোটের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী লিবারেল লিগ্যাল গ্রুপ ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ডের প্রধান স্কাই পেরিমান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আদালত একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তা হলো কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং মানুষের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। 

তবে এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই হামলার পেছনে একজন আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন, যিনি অবশ্য আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। 

ওই ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে তিনি সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবেন। পরবর্তীতে তার প্রশাসন আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ মোট ৩৯টি দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার পক্ষে নিরাপত্তা এবং কঠোর স্ক্রিনিংয়ের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল।

ঠিক এরই সেই ধারাবাহিকতায় ইউএসসিআইএস ওই ৩৯টি দেশের নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন সুবিধা সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে থমকে দেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেসের তৈরি মূল অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক আইন উভয়েরই চরম লঙ্ঘন। 

এদিকে রায়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদেনে জানানো হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা