× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ৯ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৫ ঘণ্টা আগে

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (সামনে সাদা পোশাকে), মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা (বামে) এবং অন্যান্যরা স্লোগান দিচ্ছেন। ছবি: দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (সামনে সাদা পোশাকে), মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা (বামে) এবং অন্যান্যরা স্লোগান দিচ্ছেন। ছবি: দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নফাঁস ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার দিল্লির জন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছেন সিজেপির সমর্থকেরা। আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।

সিজেপির অভিযোগ, এনইইপি-ইউজি (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রেন্স টেস্ট -আন্ডারগ্র্যাজুয়েট), সিইউইটিসহ (কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রেন্স টেস্ট) বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁস ও তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে। এসব ঘটনার জন্য তারা শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানকে সরাসরি দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করছেন।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লি পৌঁছান। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দিল্লি পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়। বিক্ষোভস্থলে পৌঁছালে তাকে “ভারত মাতা কি জয়”, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” ও “জয় ভীম” স্লোগানে স্বাগত জানান তরুণ সমর্থকরা।

ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন থেকে জাতীয় আলোচনায়

ককরোচ জনতা পার্টির সূচনা হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে। 

এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্ত বেকার তরুণদের একটি অংশকে ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) এর সঙ্গে তুলনা করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা হয়।

এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াচুংক, রাজনীতিবিদ মণীশ সিসোদিয়া এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি।

যদিও সিজেপি এখনো ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, তবে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

শুধু পদত্যাগ নয়, বিকল্প নেতৃত্বের প্রস্তাব

শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবির পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দুটি আলোচিত নাম সামনে এনেছে সিজেপি। সেই দুজন ব্যক্তি হলেন জনপ্রিয় শিক্ষাবিদ খান স্যার এবং শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জনআস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে খান স্যার নতুন আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন। অন্যদিকে, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কারণে সোনম ওয়াংচুকও একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

সিজেপির ভাষ্য, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য কেবল একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করা নয়; বরং আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা প্রশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা।

নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন

সিজেপির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নিউ দিল্লিতে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের আশপাশেও অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আন্দোলনের নেতৃত্বে কারা

বিক্ষোভে উপস্থিত রয়েছেন সিজেপির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ও মুখপাত্র। তাদের মধ্যে রয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস, রাজনৈতিক গবেষক ও নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং সাবেক ম্যাককিনসি পরামর্শক ও আইআইটি কানপুরের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অশুতোষ রাঙ্কা।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিকদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে

এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, জাতীয় পরীক্ষাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পদত্যাগের সম্ভাবনা কম হলেও সিজেপির আন্দোলন জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের প্রশ্নকে নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সিজেপি জানিয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা ঘোষণা এবং অতীতের ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা