প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৩৭ পিএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:১৬ পিএম
পূর্ব জেরুজালেমের রামত শ্লোমো অঞ্চলে ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ। ছবি : সংগৃহীত
অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ বন্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) রুল প্রার্থনা করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার এ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বাংলাদেশও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে।
শুক্রবারের (৩০ ডিসেম্বর) প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অব্যাহত বসতি নির্মাণের ফলে ফিলিস্তিনিরা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার হারাচ্ছে। ইসরায়েলি দখলদারি, বসতি নির্মাণের কারণে ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলগুলোর জনসংখ্যার বিন্যাস বদলে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে এলাকাগুলোর বৈশিষ্ট্য। ক্ষুণ্ন হচ্ছে পবিত্র শহর জেরুজালেমের পবিত্রতা। এ অবস্থায় নিজেদের নীতির দরুন ইসরায়েলকে কী কী আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে, তা নিয়ে একটি রুল দিতে আইসিজেকে অনুরোধ করছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন।
শুক্রবারের প্রস্তাবে ৮৭টি দেশ পক্ষে এবং ২৬টি বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ভোটদানে বিরত ছিল ৫৩টি দেশ। যেসব দেশ ভোট দেয়নি তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি অন্যতম। আর বিরত থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রান্স।
অন্যদিকে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ যেসব আরব দেশ ২০২০ সাল থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে শুরু করেছে সেগুলোসহ সব আরব দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। চীন ও রাশিয়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং প্রস্তাবটি সফল করতে কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে।
প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ফিলিস্তিনের শীর্ষ কর্মকর্তা হোসাইন আল-শেখ বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের প্রস্তাব পাসের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের কূটনীতির জয় হয়েছে।’
প্রস্তাব পাসের পরপরই জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মনসুর বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের এক দিন পর পাস হওয়া এ প্রস্তাব বিশেষ বার্তা দেয়। কারণ চরম ডানপন্থি এ সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনে বসতি নির্মাণ অব্যাহত রাখা এবং ঔপনিবেশিক ও বর্ণবাদী নীতি ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছে।’
শুক্রবারের ভোটের আগে ইসরায়েলি দূত গিলাদ এরদান বলেন, ‘এ প্রস্তাব জাতিসংঘের ইতিহাসে একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবে। নিজ বাসভূমিতে ইহুদি জনগণকে দখলকারী বলার কোনো অধিকার আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার নেই। জাতিসংঘের মতো নৈতিকভাবে দেউলিয়া ও রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত কোনো সংস্থার অনুমোদন অনুযায়ী ইসরায়েল নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার কোনো আদালতের নেই।’
প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থ করেছেন যুক্তরাজ্যের দূত টমাস ফিপস। টমাস ফিপস বলেন, ‘আইসিজেকে রুল দেওয়ার জন্য অনুরোধ করাটা কোনো সমাধান নয় বলে মনে করে যুক্তরাজ্য। কারণ এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনা আরও কঠিন হবে।’
এর আগে অধিকৃত ফিলিস্তিন নিয়ে ২০০৪ সালে একটি রুল দেয় নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের আদালত আইসিজে, যা বিশ্ব আদালত নামেও পরিচিত। পশ্চিত তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের দেয়াল নির্মাণ বন্ধ নিয়ে ওই রুল দেওয়া হয়েছিল। যথারীতি ওই রুল প্রত্যাখ্যান করেছিল ইসরায়েল।
সাধারণ পরিষদের শুক্রবারের প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো আইনি শক্তি বা রূপরেখা নেই। অন্যদিকে নিজেদের রুল বাধ্যতামূলক (বাইন্ডিং) হলেও তা বাস্তবায়নেরও কোনো সামর্থ্য নেই আইসিজের।
ইসরায়েলি দখলদারির ইতিহাস
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের বা তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর সেখানে স্থায়ীভাবে সেনা নিয়োগ করে দেশটি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু করা হয় ইহুদি বসতি স্থাপন। এতে প্রায় ৩ লাখ ফিলিস্তিনি নিজ বাসভূম থেকে বিতাড়িত হন।
২০০৫ সালে গাজা উপত্যকা ছেড়ে দেয় ইসরায়েল। কিন্তু ৫৫ বছর ধরে পরদেশে ইসরায়েল যে বসতি নির্মাণ বা দখলদারি অব্যাহত রেখেছে, আধুনিক ইতিহাসে তার কোনো নজির নেই।
একই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে উত্তর দিকে সিরিয়ার গোলাই হাইটস ও দক্ষিণে মিসরের সিনাই উপদ্বীপও দখল করে নেয় ইসরায়েল। ১৯৭৮ সালে মিসরের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে সিনাই থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় ইসরায়েল।