গুজরাট দাঙ্গা
প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২ ১৭:২৬ পিএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২ ১১:৩৫ এএম
বিলকিস বানু। ছবি; আলজাজিরা।
ভারতের গুজরাটে ২০০২ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বিলকিস বানু এবং তার পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জনকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমার অধীনে সাজা মওকুফ করেছে রাজ্য সরকার।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ আগস্ট) তাদের গুজরাটের গোধরা শহরের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , রাজ্য সরকার তাদের সাজা মওকুফের আবেদন অনুমোদন করার পর মুক্তি পায় সাজাপ্রাপ্তরা।
২০০২ সালে বেশ কিছু হিন্দু তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনে আগুন লেগে ৫৯ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির হিন্দু কট্টরপন্থী দলগুলো এ ঘটনার জন্য স্থানীয় মুসলমানদের দায়ী করে। এতে গুজরাটজুড়ে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা এ দাঙ্গায় অনেক মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের বাড়িঘরে লুটপাট করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার হন বহু নারী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তবে এ হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গুজরাটের দাহোদ জেলার লিমখেদা এলাকায় ২০০২ সালের ৩ মার্চে এ দাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বিলকিস বানু এবং হত্যা করা হয় তার ৩ বছরের কন্যা সালেহাকে।
সে সময় বিলকিসের বয়স ছিল ২১ বছর এবং তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া ১১ জনই ছিলেন বিলকিসের প্রতিবেশী।
গুজরাটের সিনিয়র আমলা রাজ কুমার সোমবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে বলেন, এ ১১ জন আসামি জেলে তাদের ১৪ বছর পূর্ণ করেছে। এ কারণে তাদের শাস্তি মওকুফের আবেদনটি বিবেচনা করা হয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০০৪ সালে আসামিদের কাছ থেকে বাদীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিলে বিচারকাজ গুজরাট থেকে মহারাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়।
একটি বিশেষ সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন আদালত ২০০৮ সালে ১৩ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাদের মধ্যে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়৷
দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের পর দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ২০১৯ সালে বিলকিস বানুকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ ভারতীয় মুদ্রা প্রদান করেন। গুজরাট দাঙ্গার পর এটিই প্রথম ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদাহরণ।