প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৪১ পিএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:২৩ পিএম
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করতে প্রস্তুত মস্কো। কিন্তু কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্ররা তা প্রত্যাখ্যান করছে।
রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) বড়দিন উপলক্ষে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ‘রসিয়া ওয়ান চ্যানেলকে’ দেওয়ার এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ মন্তব্য করেন।
পুতিন বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি, ইউক্রেনের জড়িত সবপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করতে আমরা প্রস্তুত। এখন বল তাদের কোর্টে। আমরা কখনও আলোচনার বিরোধী নই।’
এদিকে কিয়েভও বারবার সমঝোতার কথা বলেছে। তবে, তার জন্য তারা কিছু পূর্বশর্ত বেঁধে দিচ্ছেন। এসব শর্তের মধ্যে, ইউক্রেনের অধিকৃত সব অঞ্চল থেকে রুশ সেনাদের নিজেদের ব্যারেকে ফিরে যাওয়া অন্যতম। এমন কি ক্রিমিয়া উপদ্বীপ থেকেও রুশ সেনা ও প্রশাসনকে চলে যেতে হবে। কেবল তখনই মস্কোর সঙ্গে আলোচনা সম্ভব।
কিন্তু পুতিনসহ রাশিয়ার একাধিক শীর্ষ নেতা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, জাপোরিঝিয়া, খেরসন, দনেৎস্ক ও লুহানস্ক চিরতরে রাশিয়ার হয়ে গেছে। আর ক্রিমিয়া নিয়ে তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
উল্লিখিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে ক্রিমিয়া ২০১৪ সালে দখল করে রাশিয়া। আরও ইউক্রেনের বাকি অঞ্চলগুলো গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর রুশ ও স্থানীয় রুশপন্থীরা দখল করে নেয়। অক্টোবরে গণভোট দিয়ে জাপোরিঝিয়া, খেরসন, দনেৎস্ক ও লুহানস্ক রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে মস্কো।
অবশ্য, উল্লিখিত চারটি ওবলাস্ট বা প্রশাসনিক অঞ্চল নিয়ে গঠিত দনবাসের ওই অঞ্চলে ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ করেছেন স্থানীয় রুশপন্থীরা। এ অবস্থায় গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দখল করে নিয়েছে রাশিয়া।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে তিনি মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেন। হোয়াইট হাউসে জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।
কংগ্রেসের ভাষণ ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের এক ইঞ্চি মাটিও ছাড় দেওয়া হবে না। যে কোনো মূল্যে মাতৃভূমি রক্ষা করবে ইউক্রেন।’
জেলেনস্কির ওয়াশিংটন সফরের পরের দিন বুধবার পুতিন বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা যুদ্ধ শেষ করতে চাই।’
রবিবারের সাক্ষাৎকারে পুতিন ইউক্রেন ‘অভিযানের’ নানান দিক, যুদ্ধে পশ্চিমাদের অবস্থান, মস্কোর উদ্দেশ্যে নিয়ে কথা বলেছেন।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি ও বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, রাশিয়ার ৯৯ শতাংশ মানুষ মাতৃভূমিকে রক্ষায় বদ্ধপরিকর জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘আমি মনে করি যুদ্ধ সঠিক পথে এগোচ্ছে। আমরা আমাদের জাতীয় ও রুশ জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছি। জনস্বার্থ রক্ষা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’
১০ মাস আগে যুদ্ধ শুরুর পরপরই মস্কো ও কিয়েভের কর্মকর্তারা বেলারুশে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু করেন। সেখানে তিন দফা বৈঠকের পর তুরস্কেও কয়েক দফা বৈঠক হয়। সেখানে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বৈঠক করেন। এরপর উভয় দেশের কর্মকর্তারা অনলাইনেও কয়েক দফা বৈঠ করেন। এপ্রিল থেকে আলোচনা বন্ধ রয়েছে।
ইতোমধ্যে যুদ্ধরত উভয় দেশের মধ্যে কিছু চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে সার ও শস্যরপ্তানি, জাপোরিঝিয়ায় পরমাণু কেন্দ্রে নিয়ে আলোচনা, বন্দি বিনিময় উল্লেখযোগ্য। এসব চুক্তি ও আলোচনায় তুরস্ক, জাতিসংঘ, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যস্থতা করেছে।