আলি হার্ব, আল জাজিরা
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫১ এএম
ইসরায়েলের হামলায় নিহত গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ ফিল্ড কমান্ডার তালেব আবদাল্লাহর জানাজায় হিজবুল্লাহর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন, ১২ জুন ২০২৪। ছবি: রয়টার্স
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে হিজবুল্লাহ কার্যত একতরফা যুদ্ধবিরতি মেনে চলছিল। প্রায় প্রতিদিনের ইসরায়েলের হামলা সত্ত্বেও তারা সরাসরি জবাব দেয়নি।
এই পরিস্থিতি একসময় আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত গোষ্ঠীটির অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে বলেই অনেকের মত। তবে নতি স্বীকারের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি হিজবুল্লাহ। তারা নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ‘অবাধ্যতা’র বার্তা দিয়েছে।
অবশেষে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে—শুধু ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানের পক্ষে নিজেদের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতা যুক্ত করার উদ্দেশ্যে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করে আসছে। অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে তেহরানের ওপর গোষ্ঠীটির নির্ভরতা গভীর। ইরানের সমর্থন ছাড়া অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন, যোদ্ধাদের পারিশ্রমিক প্রদান কিংবা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার প্রশ্নটি হিজবুল্লাহর কাছেও অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
একই সঙ্গে গোষ্ঠীটি লেবাননে বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতেও আগ্রহী হতে পারে—যে ভারসাম্য কার্যত ইসরায়েলকে লেবাননে প্রায় বাধাহীন সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ দিচ্ছে।
তবে চলমান সংঘাতে তারা ইসরায়েলের কতটা ক্ষতি করতে পারবে বা বাস্তবিক অর্থে ইরানকে কতটা সহায়তা দিতে সক্ষম হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। প্রাথমিক হামলায় তারা কয়েকটি রকেট নিক্ষেপ করলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হিজবুল্লাহ হাজার হাজার যোদ্ধা হারিয়েছে। তাদের সামরিক শাখা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পাশাপাশি তারা এমন এক লেবাননি জনমতের মুখোমুখি, যারা দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটে ক্লান্ত।
হিজবুল্লাহর দেশীয় বিরোধীরাও এরই মধ্যে এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামসহ বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, এ ধরনের হামলা কেবল লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতাকে আরও উসকে দেবে এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে।