প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬ ২২:০১ পিএম
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬ ০১:২৯ এএম
গ্রিস সরকারের অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি কমিউনিটি অব গ্রিসের সভাপতি জাভেদ আসলামের শরণার্থী মর্যাদা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ঘোষণায় জানানো হয়, গত দুই সপ্তাহে সিরিয়া, পাকিস্তান, মিশর ও ইরাকের মোট ৩৩ জন তৃতীয় দেশের নাগরিকের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যেই রয়েছেন জাভেদ আসলাম।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সাম্প্রতিক সময়ে আশ্রয়প্রাপ্তদের মামলাগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাভেদ আসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠিয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আপত্তি দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আপিল করলে মামলাটি দ্বিতীয় ধাপে পর্যালোচনা করা হবে।
কে এই জাভেদ আসলাম?
জাভেদ আসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে গ্রিসে বসবাস করছেন বলে জানা যায়। তিনি নিজেকে রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষিত বলে পরিচয় দেন এবং ২০০৫ সাল থেকে “ইউনিটি” নামের পাকিস্তানি কমিউনিটির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি গ্রিসে বসবাসরত পাকিস্তানিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন।
২০১৯ সালে তিনি বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন, যখন তৎকালীন অভিবাসন নীতিমন্ত্রী পাকিস্তানিদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২১ সালে এথেন্সের ভোতানিকোস এলাকায় সরকারি মসজিদ উদ্বোধনের সময় তিনি গ্রিক রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান, তবে মিনার নির্মাণের দাবি তোলেন। সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে তিনি ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে চাচাতো ভাইবোনের বিয়ে ও শরিয়া আইন প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন।
অতীত বিতর্ক ও আইনি জটিলতা
জাভেদ আসলামের বিরুদ্ধে অতীতে পাকিস্তানে মানবপাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের অনুরোধে তাকে গ্রিসে গ্রেপ্তার করা হলেও গ্রিক আদালত তার প্রত্যর্পণ আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, অভিযোগিত অপরাধটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।
২০১২ সালে একই অভিযোগে আবার গ্রেপ্তার হলে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং তা মঞ্জুর হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত খালেদ ওসমানের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ সৃষ্টি হয়। ২০১৫ সালে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ ছিল কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, পুলিশি বাধা এবং মানহানির মামলা। এছাড়া এথেন্সে পাকিস্তানি দূতাবাসবিরোধী বিক্ষোভেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালে তৎকালীন অভিবাসন ও আশ্রয়মন্ত্রী তার আশ্রয় বাতিলের আবেদন করলেও তা কার্যকর হয়নি।
নতুন করে পর্যালোচনার কারণ
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের আশ্রয় মামলাগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী প্লেভরিস। সরকারের মতে, “প্রকৃত শরণার্থীকে সুরক্ষা দেওয়া এক বিষয়, আর গুরুতর প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেওয়া আরেক বিষয়।”
এদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এথেন্সে অবৈধ মসজিদ পরিচালনার অভিযোগেও জাভেদ আসলাম তদন্তের মুখে রয়েছেন। নতুন আইনে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।