প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫৫ পিএম
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬ ০১:২২ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের তেল, গ্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে জাপান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি যৌথভাবে এই প্রথম ধাপের প্রকল্পগুলোর ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ চীনের প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ঘোষিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের পোর্টসমাউথে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। প্রায় ৯.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষম এই কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে এসবি এনার্জি, যা জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া টেক্সাস উপকূলে একটি গভীর সমুদ্রের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল এবং জর্জিয়ায় প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি কৃত্রিম শিল্প হীরক (সিন্থেটিক ডায়মন্ড) উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই হীরক কারখানা যুক্তরাষ্ট্রকে সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপাদান সম্পূর্ণভাবে দেশীয়ভাবে উৎপাদনে সক্ষম করবে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমাবে।
এই বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্র–জাপান বাণিজ্য চুক্তির অংশ, যার আওতায় জাপান মোট ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র জাপানি গাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, “ট্যারিফই এই বিশাল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের বিশেষ চালিকাশক্তি।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাংশের অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত শুল্কনীতি মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।
এদিকে, বিরল মাটির খনিজসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বাজারে চীনের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। বৈশ্বিক খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বেইজিংয়ের শক্ত অবস্থান রয়েছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এ নিয়ে বাণিজ্যিক উত্তেজনা দেখা দিলেও, গত অক্টোবরে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমায়।
তবে তাইওয়ান ইস্যুতে টোকিও ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে সম্প্রতি জাপানে কিছু বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীন। গত নভেম্বর ২০২৫-এ সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে জাপানের সামরিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় তাকাইচি বেইজিংয়ের সমালোচনার মুখে পড়েন।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, “জাপান মূলধন দিচ্ছে, অবকাঠামো গড়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে জাপান আর্থিক মুনাফা পাবে এবং আমেরিকা পাবে কৌশলগত সম্পদ, সম্প্রসারিত শিল্প সক্ষমতা ও শক্তিশালী জ্বালানি আধিপত্য।”
অন্যদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও জানুয়ারিতে জাপানের রপ্তানি প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে চীনে রপ্তানি বৃদ্ধিও ভূমিকা রেখেছে বলে সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।