প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪০ পিএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১০ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার তেল আবিবে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: বিবিসি
একবিংশ শতাব্দীর পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। বুধবার দুই দিনের সফরে তেল আবিব পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
২০১৭ সালে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফরের পর এটি তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সফর, যা কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এক বিশেষ কৌশলগত বার্তা বহন করছে।
বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সফরের সূচিতে রয়েছে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ভাষণ, প্রেসিডেন্ট আইজাক হার্জগের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ ‘ইয়াদ ভাশেম’ পরিদর্শন।
ভারতের রাষ্ট্রদূত জে পি সিংয়ের মতে, এ সফর কেবল দুই দেশের সুসম্পর্ক নয়, বরং একে অপরের ‘পরিপূরক’ হয়ে ওঠার প্রতিফলন। আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সাইবার নিরাপত্তা এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তিগুলোর আধুনিকায়ন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তথা এফটিএ স্বাক্ষরের পথে অগ্রসর হওয়াই এ আলোচনার অন্যতম বিষয়।
বিশ্লেষক আজাদ এসার মতে, ভারত এখন ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী অপশ্চিমা মিত্র। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ‘হিন্দু স্বদেশ’ ভাবনা এবং ইসরায়েলের ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ সত্তার মধ্যে আদর্শিক সমন্বয় লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’ মোকাবিলায় উভয় দেশই অভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। গাজা সংকটের মধ্যেও ভারতের অস্ত্র সরবরাহ এবং ইসরায়েলের শীর্ষ অস্ত্র ক্রেতা হিসেবে ভারতের অবস্থান এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
মোদির এ সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। নেতানিয়াহু ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসকে নিয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক ব্লক বা ‘ষড়ভুজ’ জোটের স্বপ্ন দেখছেন। তবে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগ দেয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে ভারতের সরে আসা এবং সম্প্রতি ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নয়াদিল্লি এখন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কৌশলগত বলয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আবহে মোদির এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনপন্থি ছিল এবং ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করেছিল। বর্তমান সরকারের নীতিতে সেই অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি থেকে পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর সাথে মোদির এই উষ্ণতা ইসরায়েলের নীতিকে পরোক্ষ সমর্থন দেওয়ারই শামিল।