প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৯ এএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৯ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: কাসপিয়ান পোস্ট
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলা করা হবে- এমন হুমকিও দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছেন দেশ দুটির কর্মকর্তারা।
এই আলোচনাকে সংঘাত রোধের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনেও অস্পষ্ট।
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা (জেরুজালেম) হুগো বাচেগা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, এই মাসের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের দুই দফা আলোচনার মতো, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ট্রাম্প যদিও বলেছেন যে তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির উপর সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।
ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
এবারের আলোচনায় ইরানের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটি আঞ্চলিক কনসোর্টিয়াম গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে- যা আগের আলোচনাগুলোতেও উত্থাপিত হয়েছে।
জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ১৭ ফেব্রুয়ারি সবশেষ পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ছবি: ইপিএ
এছাড়াও ইরানের প্রায় ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে কী করা হবে, সে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারণাও আলোচনায় থাকতে পারে।
এর বিনিময়ে ইরান আশা করছে এমন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, যা তার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিরোধীদের দাবি, কোনো ধরনের অব্যাহতি পেলে তা দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বকে নতুন করে টিকে থাকার সুযোগ দেবে।
তবে ট্রাম্প কোন শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরান ইতোমধ্যে দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা এবং এ অঞ্চলে যারা তাদের সমর্থনপুষ্ট, তাদেরকে সমর্থন বন্ধ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কোনো চুক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন, যেটায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং তার সমর্থপুষ্টদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি মাসের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউজ সফর করা নেতানিয়াহু ইরান সরকারকে পতনের লক্ষ্যে একটি অভিযানের পক্ষে চাপ বাড়াতে পারেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।
বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কয়েকটি গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আসন্ন দিনগুলোতে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বা পারমাণবিক স্থাপনার ওপর প্রাথমিক হামলার কথা বিবেচনা করছিলেন, যাতে দেশটির নেতাদের ওপর চাপ বাড়ানো যায়।
আলোচনা ব্যর্থ হলে, প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি অভিযান শুরুর নির্দেশও দিতে পারেন।
এদিকে, ইরান হুমকি দিয়েছে, যেকোনো হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরায়েলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।
ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরানের ওপর হামলা হলে তা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং তারা সতর্ক করেছে, কেবলমাত্র বিমানশক্তি দিয়ে দেশটির নেতৃত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।