বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাসভবন মার-এ-লাগো অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি এলাকায় অবস্থিত। ছবি: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবনে অস্ত্রসহ অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে সিক্রেট সার্ভিস।
কর্তৃপক্ষ জানায় রবিবার ভোরে এ ঘটনার সময় ট্রাম্প বাসভবনে ছিলেন না; ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছিলেন তিনি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার-এ-লাগোর সুরক্ষিত সীমানার ভেতরে ঢুকে পড়ার পর ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি।
নিহত তরুণের নাম অস্টিন টি মার্টিন। বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার সিবিএস জানিয়েছে, তিনি উত্তর ক্যারোলিনার ক্যামেরন এলাকার বাসিন্দা।
নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, তার কাছ থেকে একটি শটগান উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার হাতে একটি জ্বালানির পাত্রও ছিল।
যেভাবে ঘটলো গুলির ঘটনা
সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার-এ-লাগোর উত্তর দিকের ফটক দিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে এজেন্টরা তাকে থামার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে একপর্যায়ে গুলি চালাতে বাধ্য হন তারা।

পাম বিচ কাউন্টির শেরিফ রিক ব্র্যাডশ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিরাপত্তা সদস্যরা প্রথমে তাকে হাতে থাকা শটগান ও জ্বালানির পাত্র ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি নির্দেশ না মানায় গুলি চালানো হয়।
তদন্তে এফবিআই, খতিয়ে দেখা হচ্ছে অতীত
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে মার্টিনের খোঁজ না পেয়ে উত্তর ক্যারোলিনায় বসবাসকারী তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
ঘটনার পরপরই ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তদন্ত শুরু করেছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র ব্রেট স্কিলস জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলটি ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের আওতাধীন একটি সুরক্ষিত এলাকা। এফবিআই সেখানে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত মার্টিনের ব্যক্তিগত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, তার বিরুদ্ধে আগে এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এর আগে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের ওপর হওয়া বন্দুক হামলার সঙ্গেও তার কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, যে শটগানটি নিয়ে তিনি মার-এ-লাগোতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, সেটি উত্তর ক্যারোলিনা থেকে ফ্লোরিডায় যাওয়ার পথে কেনা হয়েছিল কি না।
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি সামাজিক মাধ্যম এক্সের এক পোস্টে লিখেছেন, "আজ ভোরে মার-এ-লাগোর সুরক্ষিত সীমানায় অবৈধভাবে প্রবেশ করতে দেখে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা তার ওপর গুলি চালায়।”
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, "মার-এ-লাগোর উত্তর দিকের ফটকে সন্দেহভাজন ওই যুবককে একটি শটগান এবং একটি জ্বালানির পাত্র বহন করতে দেখা গেছে।"
পাম বিচের কাউন্টি শেরিফ রিক ব্র্যাডশ বিবিসিকে বলেন, সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে দেখে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে অস্ত্রধারী যুবকটিকে থামতে বলেন। কিন্তু তিনি আদেশ অমান্য করে সামনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি নিক্ষেপ করেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
"আমরা তাকে শুধু একটা কথাই বলেছিলাম। 'জিনিসপত্র ফেলে দাও', অর্থ্যাৎ তার হাতে থাকা জ্বালানির পাত্র এবং শটগান ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল," এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন ব্র্যাডশ।