প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৮ পিএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৫ পিএম
শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ক্যাম্পাসে শনিবার শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মিছিল করছেন। ছবি: ভিডিও থেকে
ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে; গত মাসের প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর এ ধরনের সমাবেশ এটিই প্রথম। দেশটির রাজধানী তেহরানসহ একাধিক অঞ্চলে বিক্ষোভ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।
বিবিসির যাচাই করা ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ক্যাম্পাসে শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মিছিল করছেন। নতুন সেমিস্টারের শুরুতে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা।
তারা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে উদ্দেশ করে ‘স্বৈরাচারের পতন হোক’—এমন স্লোগান দেন। পাশাপাশি আরও সরকারবিরোধী স্লোগানও শোনা যায়।
একই সময় কাছাকাছি এলাকায় সরকারপন্থীদের আরেকটি সমাবেশ দেখা যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
তেহরান থেকে মাশহাদ: ছড়িয়ে পড়ছে কর্মসূচি
তেহরানের শহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ছবি যাচাই করেছে বিবিসি। এছাড়া আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকেও সরকারবিরোধী স্লোগানের ভিডিও মিলেছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদ-এ স্থানীয় শিক্ষার্থীরা “স্বাধীনতা, স্বাধীনতা” এবং “অধিকারের আওয়াজ তোলো” স্লোগান দেন।
একই দিনে আরও কয়েকটি স্থানে বড় সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে এবং রবিবার আরও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পারমাণবিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই বিক্ষোভ এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইরানের আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এর আগে তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে “সহায়তা আসছে”বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে—যা ইরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানো হলেও ট্রাম্প পরে বলেন, আগামী ‘সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যে’বোঝা যাবে চুক্তি হবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিকে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হরানা) জানিয়েছে, ওই আন্দোলনে অন্তত ৬,১৫৯ জন নিহত হয়েছেন বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
এর মধ্যে ৫,৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকার-সম্পৃক্ত ব্যক্তি রয়েছেন। এছাড়া আরও ১৭,০০০ মৃত্যুর খবর তারা তদন্ত করছে।
অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি—গত মাসের শেষ পর্যন্ত ৩,১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন, তবে তাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা “দাঙ্গাবাজদের” হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ।
বর্তমানে ইরানি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
দেশটির নির্বাসিত বিরোধীপক্ষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার হুমকি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে, তাদের আশা এতে কট্টরপন্থি সরকারের দ্রুত পতন ঘটবে।
তবে অন্য বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষ ইরানি জনগণ আসলে কী চায়—তা নিয়ে নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে তর্কে জড়িয়ে পড়েছে।