প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:১৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমাদের দেশের জন্য যা সঠিক, তা করার সাহস না থাকার জন্য আমি আদালতের কিছু সদস্যের জন্য লজ্জিত, অত্যন্ত লজ্জিত।” ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের কঠোর সমালোচনা ও ঐতিহাসিক রায়ের পরও বিশ্বের সব দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওভাল অফিসে শুক্রবার এ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি ‘প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর’ হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন দেশকে প্রভাবিত বা চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন হারে শুল্ক আরোপ করেছে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ যেমন প্রভাবিত হয়েছে, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকেও একই নীতির আওতায় আনা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য এবং পৃথক তদন্তাধীন কিছু খাত এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।
এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আগে থেকেই শুল্ক চুক্তিতে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদেরও নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে।
যদিও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন ভবিষ্যতে ‘আরও উপযুক্ত বা পূর্ব-আলোচনামূলক শুল্ক হার বাস্তবায়নের উপায়’ খুঁজবে।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার সকালে ৬-৩ ভোটে এক ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফাভাবে আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে।
আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের একটি আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে বিস্তৃত শুল্ক আরোপ করেছেন, তা আইনের সীমা অতিক্রম করেছে।
আদালতের মতে, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে এমন অবাধ ক্ষমতা প্রদান করে না। এমনকি ট্রাম্প মনোনীত দুই বিচারকও এ রায়ে তার বিপক্ষে অবস্থান নেন।
রায়ের পর ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ তোলেন যে আদালতের সিদ্ধান্ত বিদেশি স্বার্থের প্রভাবে হয়েছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমাদের দেশের জন্য যা সঠিক, তা করার সাহস না থাকার জন্য আমি আদালতের কিছু সদস্যের জন্য লজ্জিত, অত্যন্ত লজ্জিত।”
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
দেশের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অতীতের তুলনায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।