প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২ ১১:৪৬ এএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২ ১২:৩০ পিএম
চীনা নজরদারি জাহাজ ওয়াং ইয়াং-৫
ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কায় নোঙর করেছে চীনের ‘নজরদারি’ জাহাজ ওয়াং ইয়াং-৫।
বন্দরের মাস্টার ক্যাপ্টেন নির্মল ডি সিলভার বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় জাহাজটি শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে নোঙর করে।
চীনের এ জাহাজটি স্যাটেলাইট এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি করার ক্ষমতা রাখে। যে কারণে ভারত গুপ্তচর জাহাজটিকে কলম্বোয় নোঙর করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
প্রতিবেশী ভারতের এমন আপত্তির কারণে কলম্বো জাহাজটির সফর স্থগিত করতে অনুরোধও জানাছিল বেইজিংকে। যা গতকাল শ্রীলঙ্কায় নোঙর করার জন্য পাড়ি দেয়।
নয়াদিল্লি আশঙ্কা করছে, এ জাহাজটির ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে বেইজিং ভারতীয় স্থাপনার ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে।
কলম্বো জানিয়েছে, জাহাজটিকে এই শর্তে বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল যে এটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় থাকাকালীন স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) চালু রাখতে পারবে না। এ ছাড়া এ সময়ে তাদের কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনারও অনুমতি নেই।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, চীনা জাহাজ ওয়াং ইয়াং-৫ এর নোঙর করার বিষয়ে প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ও সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতার নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছিলেন, ভারত তার অঞ্চলে বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ছাড়া ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডকে সরকার সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে, তা থেকে রক্ষার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কথা বলে শ্রীলঙ্কার ওপর চাপ দেওয়া উচিত নয়। নির্দিষ্ট কিছু দেশের এমন আচরণকে অন্যায় বলে উল্লেখ করেছে বেইজিং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে চীনের সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রমকে যুক্তিসঙ্গত দৃষ্টিতে বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ সময় চীন ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাকে ব্যাহত না করার আহ্বানও জানান তিনি।
হাম্বানটোটা বন্দরটি পরিচালনা করে চীন। ১১২ কোটি ডলারে বিনিময়ে ৯৯ বছরের জন্য বন্দরটি লিজ দেওয়া হয় বেইজিংকে। বেইজিং শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা, দ্বীপের বৈদেশিক ঋণের ১০ শতাংশেরও বেশি মালিক বেইজিং।
প্রবা/এনএস/এসআর