প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৮ এএম
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪০ এএম
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (ডানে) এবং সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো। ছবি: বিবিসি
মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কোকে দেশ ছাড়ার সময় আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তার গন্তব্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত জানা যায়নি। খবর বিবিসির
গত নভেম্বরে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড) আত্মসাতের একটি অভিযোগে যেসব সরকারি কর্মকর্তার নাম উঠে আসে, তাদের মধ্যে লুশচেঙ্কোও ছিলেন।
দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা জেলেনস্কির প্রশাসনকে ওই দুর্নীতি কেলেঙ্কারি বড় চাপে ফেলে দেয়।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। তবে এই কেলেঙ্কারির জেরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের চাপ বেড়েছে।
ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো ন্যাশনাল এন্টি-করাপশন ব্যুরো অব ইউক্রেন (নাবু) রবিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মিডাস’ মামলার অংশ হিসেবে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রমের সময় আটক করা হয়েছে। যদিও বিবৃতিতে সরাসরি গালুশচেঙ্কোর নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম তার নাম নিশ্চিত করেছে।
গালুশচেঙ্কো এর আগে কিছুদিনের জন্য বিচারমন্ত্রী ছিলেন। গত নভেম্বরে জেলেনস্কির নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গালুশচেঙ্কো ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়মিত আদায় করতেন। তদন্ত সংস্থাগুলো দাবি করেছে, আত্মসাৎ করা অর্থ পাচার করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে, এমনকি রাশিয়াতেও অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ মিলেছে। নগদ অর্থভর্তি ব্যাগের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
গালুশচেঙ্কো এর আগে অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি লড়াই করার কথা জানিয়েছিলেন।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির সমস্যায় ভুগছে। যদিও নাবু ও বিশেষ দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটরস অফিস (স্যাপ) এক দশক ধরে কাজ করছে, তবুও দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য দুর্নীতি দমনকে ইউক্রেনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।