প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:২২ পিএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৫৯ পিএম
ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে ২৪ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে প্রবেশ করেন রাহুল গান্ধী। তাদের বরণ করে নেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাসহ সহস্রাধিক মানুষ। ছবি : সংগৃহীত
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ নিয়ে শনিবার সকালে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা রাজ্য থেকে দিল্লিতে প্রবেশকালে কংগ্রেসের কিছু শীর্ষ নেতাসহ সহস্রাধিক মানুষ যাত্রাকে বরণ করে নেন। যাত্রাটি রাজধানীতে নয় দিন বিরতি নেবে। এরপর ৩ জানুয়ারি থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ফের হাঁটা শুরু করবে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যাত্রা বরণ করে নিতে যারা দিল্লির উপকণ্ঠে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে রাহুল গান্ধীর মা সোনিয়া গান্ধী, বোন ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী ভদরে ও প্রিয়াংকার স্বামী রবার্ট ভদরে অন্যতম।
মাকে জড়িয়ে ধরে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ছবির ক্যাপশনের রাহুল লেখেন, ‘মায়ের থেকে আমি যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাই আমি দেশবাসীর সঙ্গে ভাগাভাগি করছি।’
টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নরেন্দ্র মোদির ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের মানুষকে একাট্টা করতে দেশটির দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু থেকে গত ৭ সেপ্টেম্বর ভারত জোড়ো যাত্রা বা এক হও ভারত র্যালি (যাত্রা) শুরু করে কংগ্রেস। যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডন্ট রাহুল গান্ধী।
যাত্রাটি রাজস্থান থেকে গত বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে হরিয়ানায় প্রবেশ করেছে। হেঁটে ১৫০ দিনে তিন হাজার ৫৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জম্মু-কাশ্মিরে গিয়ে যাত্রাটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যাত্রাটি ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
এ অবস্থায় ভারত জোড়ো যাত্রা স্থগিত করতে গত মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) আহ্বান জানান বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া। মান্ডাভিয়ার দাবি, ভারতে নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, তাই যাত্রাটি বন্ধ করা উচিত। কিন্তু করোনা নয়, মানুষের জাগরণকে ভয় পেয়েই বিজেপি নেতারা যাত্রা বন্ধ করতে চাচ্ছেন বলে মনে করে কংগ্রেস।

ভারত জোড়ো
যাত্রাকে বরণ করে নিতে নয়াদিল্লিতে হাজারো মানুষের ভিড়। ২৪ ডিসেম্বর। ছবি : সংগৃহীত
যাত্রা নিয়ে মনসুখ মান্ডাভিয়ার সমালোচনার জবাবে গত মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মান্ডাভিয়া যদি করোনা বিধিনিষেধ নিয়ে এতই উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে বিজেপির নেতারা তা নিয়ে যে কোনো তোয়াক্কা করেছেন না, তা নিয়ে তিনি কিছু বলেন না কেন? সম্প্রতি গুজরাট নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা যেভাবে গণসংযোগ করেছেন, তা নিয়ে তো তারা টুঁ-শব্দটি করেননি।’
অধীর রঞ্জন চৌধুরী মনে করেন, ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে বিজেপি ব্যাপক ভয়ে আছে। এ যাত্রার মধ্য দিয়ে মানুষ জাগছে। তাই তারা এসব কথা বলছে।