প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫১ পিএম
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম
শিল্পী ইসাবেলা ওয়ালটিং ও মালামা ইউসুফজাই। ছবি: সংগৃহীত
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি মার্গারেট হল (এলএমএইচ)-এ নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও নারী শিক্ষার অগ্রদূত মালালা ইউসুফজাইয়ের একটি প্রতিকৃতি উন্মোচন করা হয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর মালালা হলেন কলেজটির দেওয়ালে স্থান পাওয়া দ্বিতীয় পাকিস্তানি নারী।
শিল্পী ইসাবেলা ওয়াটলিংয়ের আঁকা
এই প্রতিকৃতি এলএমএইচের বার্ষিক ‘ফাউন্ডারস অ্যান্ড বেনেফেক্টরস ডিনার’- এ উন্মোচিত
হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন অতিথি। তাদের মধ্যে ছিলেন মালালার বাবা জিয়াউদ্দিন
ইউসুফজাই, মা তূর পেকাই ইউসুফজাই, ভাই খুশাল খান ইউসুফজাই ও স্বামী আসের মালিক।
মালালা বলেন, ‘বেনজির ভুট্টো শুধু
পাকিস্তানের নারীদের জন্য নয়, সারা বিশ্বের নারীদের জন্যই অনুপ্রেরণা। আমি সবসময় তাকে
গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি।’
তিনি মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে
ধরেন এবং আফগানিস্তানে তালেবানের মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
মুসলিম দেশগুলোকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। মালালা জোর দিয়ে বলেন, তালেবানের এই
নিষেধাজ্ঞা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। তিনি আফগান নারীদের সাহসের প্রশংসা করেন, যারা
গোপন স্কুল ও অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রতি সমর্থন ও
সংহতির কথাও জানান তিনি।
অক্সফোর্ডে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি
(পিপিই) বিষয়ে পড়াশোনা করে ২০২০ সালে স্নাতক হন মালালা। নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি
বলেন, ‘অক্সফোর্ডে প্রথম আসার সময় আমার হৃদয়ে ছিল সোয়াত উপত্যকার পাহাড়। এখানে এসে
বুঝেছি ঘর শুধু একটি জায়গা নয়, বরং মানুষ, স্মৃতি আর আনন্দের মুহূর্তগুলোই ঘর হয়ে
ওঠে।’
অক্সফোর্ড পাকিস্তান প্রোগ্রামের
সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. তালহা জে পিরজাদা বলেন, মালালার এই প্রতিকৃতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের
জন্য একটি ‘পূর্ণচক্র মুহূর্ত’। এটি অক্সফোর্ডে পাকিস্তানি নারীদের পথ খুলে দেওয়ার
প্রতীক।
প্রোগ্রামের আউটরিচ লিড মিনাহিল
সাকিব বলেন, ‘কলেজে তার উপস্থিতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবেÑ মেয়েদের শিক্ষার
পক্ষে তার আজীবন সংগ্রামের শক্তিশালী স্মারক হয়ে।’
শিল্পী ইসাবেলা ওয়াটলিং জানান,
মালালার ‘শক্তি ও সৌন্দর্য’ একসঙ্গে ক্যানভাসে ধরতে পারা ছিল তার জন্য এক বিরাট সম্মান
ও চ্যালেঞ্জ।