প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১২ পিএম
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ছবি: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তেজনা কমিয়ে আনতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নিচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “ন্যায়সংগত ও সম্মানজনক” আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত এবং পাল্টা হুমকির মুখে দুই দেশের সম্পর্ক চরম তলানিতে পৌঁছালেও, পর্দার আড়ালে এখন পরিস্থিতি শান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা “আগামী কয়েক দিনের মধ্যে” হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই আলোচনার সময়সূচি সম্পর্কে তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে বলেন, ওমান, তুরস্ক ও আরও কয়েকটি দেশ এই আলোচনার আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। চূড়ান্ত স্থান শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে একটি ইরানি ড্রোনকে ভূপাতিত করার পর, হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জানান, দেশটির বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা এখনো বহাল রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই আলোচনা, যা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবে বলে বলা হয়েছে, ইরানে জানুয়ারি মাসে হওয়া বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের তিন সপ্তাহ পর শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে পুলিশের সহিংস অভিযানে হাজারো বিক্ষোভকারী নিহত ও আহত হয়।
এদিকে, ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্ক, কাতার ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। ফোনালাপে আরাঘচি এই দেশগুলোকে “উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তার” জন্য ধন্যবাদ জানান।