প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪০ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৭ পিএম
উত্তর–পূর্ব মিসরে গাজা উপত্যকার সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের মিশরীয় অংশে অ্যাম্বুলেন্সগুলো অপেক্ষা করছে, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ছবি: এএফপি
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর সীমিত চলাচলের জন্য গাজার গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ক্রসিংটি দিয়ে সোমবার নিয়ন্ত্রিতভাবে যাতায়াত শুরু হয়।
ইসরায়েলের ভূখণ্ড এড়িয়ে গাজা উপত্যকাকে সরাসরি মিশরের সঙ্গে যুক্ত করা এটিই ফিলিস্তিনের একমাত্র স্থলসীমান্ত পথ।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হওয়ায় মানবিক কার্যক্রম ও চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করতেই ক্রসিংটি খোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ক্রসিংয়ের কার্যক্রম সীমিত থাকবে। ইসরায়েল ও মিশর সীমান্ত অতিক্রমকারী যাত্রীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একই সঙ্গে গাজায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি চালাবে বলেও জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েল ক্রসিং খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর মিশরীয় অংশে অ্যাম্বুলেন্সের সারি দেখা যায়। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে তারা গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
রয়টার্স বার্তা সংস্থার বরাতে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় পর্যবেক্ষক দলগুলো ইতিমধ্যে ক্রসিং এলাকায় পৌঁছেছে।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিন অংশ পরিচালনায় থাকবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্ডার অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন (ইইউবিএএম)। গাজা ত্যাগ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নাম ও তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যের তালিকা নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য মিসরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
একই প্রক্রিয়ায় গাজায় প্রবেশ করতে চাওয়া ফিলিস্তিনিদের নামের তালিকাও মিশরীয় পক্ষ ইসরায়েলের কাছে পাঠাবে। নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরদিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলে খবরে জানানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে এক মিশরীয় কর্মকর্তা বলেছেন, ক্রসিং চালুর প্রথম দিনে উভয় দিক থেকে ৫০ জন করে ফিলিস্তিনির যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, মিশর থেকে গাজায় প্রবেশকারীদের জন্য রাফাহ ক্রসিংয়ের বাইরে সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ‘রেগাভিম’ নামে একটি চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনারা আগত ব্যক্তিদের পরিচয় ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার অনুমোদিত তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে এবং সঙ্গে থাকা সামগ্রী তল্লাশি করবে।
২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় যুদ্ধ তীব্র আকার নেওয়ার প্রায় নয় মাস পর রাফাহ ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েল। এর ফলে গাজার বাইরে চিকিৎসা নিতে চাওয়া আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত এক বছরে ইসরায়েলের মাধ্যমে অন্য দেশে চিকিৎসার জন্য কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে অনুমতি দেওয়া হলেও আরও বহু মানুষের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন।
গত সপ্তাহে ক্রসিং পুনরায় খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর সীমান্তের মিসরীয় অংশে অ্যাম্বুলেন্সের সারি দেখা যায়। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সরিয়ে নিতে সেগুলো গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় এক লাখ ফিলিস্তিনি গাজা ছেড়েছেন। তাদের অধিকাংশই যুদ্ধের প্রথম নয় মাসের মধ্যে অঞ্চল ত্যাগ করেন।