প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৬ পিএম
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৮ পিএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আলি লারিজানি। ছবি: এপি
উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সংঘাত এড়াতে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশই নিশ্চিত করেছে, একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে এবং যুদ্ধ এড়াতে পারস্পরিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। খবর আল-জাজিরার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছে”। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি জানান, আলোচনার কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ইরানকে এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়া উচিত, যাতে দেশটির কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। তবে তেহরান শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তিতে সই করবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
এ সময় তিনি ইরানের দিকে অগ্রসরমান মার্কিন নৌবহরের কথাও উল্লেখ করেন। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে ওই বহর পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের খুব বড় ও শক্তিশালী জাহাজ ওই দিকেই যাচ্ছে। আমি আশা করি তারা এমন কিছু নিয়ে আলোচনা করবে, যা গ্রহণযোগ্য হবে।”
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “কৃত্রিমভাবে তৈরি করা মিডিয়া যুদ্ধের বর্ণনার বিপরীতে, আলোচনার একটি কাঠামো গঠনের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।” তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপ নিয়ে ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় না বসে, তাহলে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌযানগুলো সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সতর্ক করে। হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির দুই দিনব্যাপী নৌ মহড়ার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেন্টকম জানায়, এ ধরনের ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তারা আলোচনায় আগ্রহী, তবে শর্ত হলো- ট্রাম্পকে আগে সামরিক হামলার হুমকি বন্ধ করতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানের উপকূলে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখন ‘আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের এলাকায় সামরিক মহড়া চালাবে, তা নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, যে বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, সেই বাহিনীর কাছ থেকেই এখন ‘পেশাদার আচরণ’ দাবি করা হচ্ছে- যা সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, পরিস্থিতি এখনও “খুবই নাজুক ও স্পর্শকাতর”। তবে আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে লারিজানির বক্তব্যকে তিনি একটি “ইতিবাচক ইঙ্গিত” হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, সংঘাত এড়াতে ইরান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি তেহরানে আলি লারিজানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
কাতার জানায়, অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগে তারা সমর্থন দেবে।
এ ছাড়া তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত ঠেকাতে সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।