যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা
আল জাজিরা
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫১ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির পর তেহরানে, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেওয়ালে আঁকা চিত্রকর্মের পাশ দিয়ে হাঁটছেন এক ব্যক্তি। ছবি: আনাদোলু
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এখন আন্তর্জাতিক নজর কাড়ছে। তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকলেও তাদের মূল মনোযোগ প্রতিরক্ষায়।
নতুন সংঘাত এড়াতে আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। এ কারণে তুরস্কে শুক্রবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরান “প্রতিবেশীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক ক্রমাগত জোরদারের চেষ্টা করছে।”
উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আঞ্চলিক নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ না করতে এবং উভয় পক্ষকে সমঝোতায় রাজি করাতে চাইছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আর্মাদা’ ইতোমধ্যেই ইরানের জলসীমার কাছে অবস্থান নিয়েছে, যার নেতৃত্বে আছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।
ইরানে শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক এবং বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট। তারা প্রকাশ করছে যে মনোযোগ আলোচনার নয়, দেশের রক্ষায়।
ইরানের আলোচক দলের সিনিয়র সদস্য কাজেম ঘরিবাবাদী বলেন, “তেহরানের অগ্রাধিকার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়, বরং আমাদের দেশ রক্ষা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা।”
ঘরিবাবাদি আরও জানান, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আলোচনার জন্য পরিস্থিতি তৈরি হলেও, আত্মরক্ষার জন্য ইরান সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। গত জুনে আলোচনার ঠিক আগে, প্রথমে ইসরায়েল এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও আক্রমণের প্রেক্ষাপট ইরানকে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে প্ররোচিত করেছে।
প্রস্তুত সেনাবাহিনী
জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যু এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর সামরিক সক্ষমতা জোরদারে মনোযোগ বাড়িয়েছে ইরান।
বর্তমানে প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি দেশটির অগ্রাধিকারে রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বহরে এক হাজার নতুন ‘কৌশলগত’ ড্রোন যুক্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে আত্মঘাতী, যুদ্ধ, গোয়েন্দা ও সাইবার যুদ্ধ–সক্ষম ড্রোন রয়েছে।
ড্রোনগুলো স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে স্থির বা চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। সামরিক মহলে একে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর কমান্ডার আমির হামাতি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, হুমকির মাত্রা বিবেচনায় দ্রুত যুদ্ধের কৌশলগত সুবিধা ধরে রাখা ও উন্নত করা তাদের কর্মসূচির অংশ।
তিনি বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের আগের বক্তব্যেও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
তাদের দাবি, প্রয়োজনে ইসরায়েলসহ পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানার সক্ষমতা তাদের আছে।