প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০১ পিএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের জৌনপুরের সুরাজ ভাস্কর। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার শৈশবের। সে স্বপ্ন সফল করতে দুবার অংশ নেন মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা নিটে, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থতা সঙ্গী হয় সুরাজ ভাস্করের, যেটি মেনে নিতে পারেননি তিনি। মেডিক্যালে ভর্তির উদগ্র বাসনা তাকে তাড়িত করে ভয়াবহ এক কাণ্ডে।
ভারতে মেডিক্যাল কলেজ
ভর্তি পরীক্ষায় রয়েছে প্রতিবন্ধী কোটা। স্বপ্ন পূরণ করতে সেই কোটায় যোগ্য হওয়ার চেষ্টা
করেন উত্তর প্রদেশের জৌনপুরের সুরাজ। নিজেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী দেখাতে কেটে ফেলেন
পা।
খলিলপুর গ্রামের ২০
বছর বয়সী এ তরুণের কাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মেডিক্যাল
কলেজে ভর্তির ব্যর্থতা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল সুরাজকে। সেটি মেনে না নিতে পেরে গত ১৭ জানুয়ারি
আত্মবিনাশী পদক্ষেপটি নেন তিনি।
সুরাজ নিজে এ কথা স্বীকার
করতে চাননি। ঘটনার পরের দিন তার বড় ভাই আকাশ পুলিশকে জানান, ১৭ জানুয়ারি রাতে ‘অজ্ঞাত
হামলাকারীরা’সুরাজকে আক্রমণ করে পা কেটে ফেলে। এর আগে তারা
তাকে অচেতন করে ফেলে। সকালে জ্ঞান ফেরার পর পা বিচ্ছিন্ন দেখেন সুরুজ।
এ ঘটনায় হওয়া মামলাটি
তদন্ত করছেন সিটি সার্কেল অফিসার গোল্ডি গুপ্তা। মামলার তদন্ত চলাকালীন সুরাজের কথায়
বেশ কিছু গরমিল পায় পুলিশ। সন্দেহ আরও বাড়ে যখন তার মোবাইল পরীক্ষা করা হয়।
তদন্তে একজন নারীর নম্বর
বেরিয়ে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এমনকি তদন্তে সুরাজের একটি ডায়েরি খুঁজে পাওয়া
যায়। এতে লেখা ছিল, “আমি ২০২৬ সালে এমবিবিএস ডাক্তার হব।”
পুলিশ আরও জানায়, মেডিক্যাল
পরীক্ষায় পাস করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির
সুযোগ পেতে তিনি নিজের পা কেটে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ঘটনাটিকে একটি অপরাধমূলক আক্রমণ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন সুরাজ।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত
ব্যক্তি বানোয়াট গল্পের মাধ্যমে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ
জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করার সময় তার দাবিগুলি যাচাই-বাছাইয়ে টিকে থাকেনি।
লাইন বাজার স্টেশন হাউস
অফিসার সতীশ সিং জানান, সুরাজ বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।