আল জাজিরা
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০০ পিএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। কোলাজ ছবি
আফগানিস্তান যুদ্ধে ইউরোপীয় সেনারা সম্মুখ সারিতে ছিল না—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে ‘অপমানজনক ও মর্মান্তিক’ বলে সরাসরি ক্ষোভ ঝেড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেছেন, এ ধরনের মন্তব্য মিত্রদেশগুলোর আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করে।
ফক্স নিউজে দেওয়া ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার স্টারমার বলেন, “যদি আমি এমন ভুলভাল বলতাম, তবে অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম।” একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তানে নিহত ৪৫৭ ব্রিটিশ সেনার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
ডেনমার্কের অনেকটা স্ব-শাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলে পাশে না পাওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েও তা প্রত্যাহার করার পরই বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “আমরা কখনই তাদের (ন্যাটোর) লাগেনি, তাদের কাছে সত্যিই কিছু চাইনি।”
স্টারমারের প্রতিক্রিয়ার পর ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বার্তা সংস্থা এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারেই সঠিক; যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে যে অবদান রেখেছে, তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি।”
সন্তানদের কবর দিয়েছে মা–বাবারা
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে যুক্তরাজ্যের দেড় লক্ষাধিক সেনা আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ বাহিনীর পাশাপাশি ন্যাটোর অন্যান্য দেশের সৈন্যরাও যুদ্ধে অংশ নেন এবং অনেকেই প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার ১৫০ সৈনিক এবং ফ্রান্সের ৯০ জন। এ ছাড়া জার্মানি, ইতালি ও অন্যান্য দেশ থেকেও কয়েক ডজন সৈন্য নিহত হন। তবে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনার সংখ্যা ২,৪০০–এর বেশি।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আগ্রাসনের পর থেকে অন্তত ৪৬,৩১৯ আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। এতে অসুস্থতা, খাদ্য ও পানির সংকট বা অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে মৃত্যুর হিসাব অন্তর্ভুক্ত নয়।
যুক্তরাজ্যের রাজকুমার হ্যারি আফগান যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের স্মরণ করে বলেন , “মা-বাবারা তাদের সন্তানদের কবর দিয়েছেন। শিশুদের বাবা-মা ছাড়া বড় হতে হয়েছে। পরিবারগুলো এখনও সেই মূল্য বহন করছে।”
ইউরোপজুড়ে অসন্তোষ
ট্রাম্পের মন্তব্য ইউরোপজুড়ে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে হুমকি দিয়ে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য “মিথ্যা ও অসম্মানজনক।”
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশ বিশ্বাসযোগ্য ও পরীক্ষিত সহযোগী, এবং এটা কখনও পরিবর্তন হবে না।”
রাজকুমার হ্যারি বলেন, আফগান যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাদের আত্মত্যাগ “সত্যিকার ও সম্মানজনকভাবে” স্মরণ করা উচিত।