প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:১৫ পিএম
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:১৩ পিএম
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা দেওয়াল টপকে ক্যাপিটল ভবনে ঢোকার চেষ্টা করছেন। ৬ জানুয়ারি ২০২১ সাল। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হার মেনে নিতে পারছিলেন না তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা। এ অবস্থায় দেশটির কংগ্রেসে (সংসদের নিম্ন ও উচ্চকক্ষ) জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের দিন পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলে হামলা চালায় ট্রাম্পের সমর্থকেরা। হামলার ঘটনা নিয়ে ১৮ মাসের তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের একটি বিশেষ কমিটি। এতে ২০২০ সালের নির্বাচনী ফল বানচালের চেষ্টায় ট্রাম্পের ‘একাধিক ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আট অধ্যায়ের ৮৪৫ পাতার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সংবিধান না মানা, ষড়ন্ত্রের মতো মতবাদ উসকে দিতে থাকেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানানভাবে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর আগের চার বছরে প্রস্তুত করা সমর্থকদের ব্যবহার করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের উসকানি ও সমর্থন পেয়ে সারা দেশ থেকে তার সমর্থকেরা ক্যাপিটলে হামলার জন্য জড়ো হন। দাঙ্গা থামাতে কোনো চেষ্টাই করেননি তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার জন্য এককভাবে যদি কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করতে হয়, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ তিনি না চাইলে ওই দাঙ্গা ঘটতে পারত না।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, প্রতিবেদনের ভূমিকায় প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিদায়ী স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘এই প্রতিবেদন সব মার্কিন নাগরিকের জন্য সতর্কতা। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব আমাদের, মার্কিন জনগণের। আমাদের এমন ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে হবে, যিনি আমাদের সংবিধানকে লঙ্ঘন না করে রক্ষা করবেন।’
তদন্ত কমিটির ভাইস-চেয়ারওমেন ও রিপাবলিকের আইনপ্রণেতা লিজ চেনি প্রতিবেদনে আলাদা এক ভূমিকায় লেখেন, ‘আমাদের সংবিধান কেবল তখনই শক্তিশালী বলা যাবে, যখন সংবিধানের প্রতি আস্থাবান ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন। ৬ জানুয়ারির ঘটনার ট্র্যাজেডি হলো, এমন লোকজনই ওই ঘটনায় মদদ দিয়েছেন, যারা জানেন তারা যা করছেন তা ভুল। তারপরও তারা তা করেছেন।’
কমিটি ও তদন্তের ধরন
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গা তদন্তের জন্য ওই বছরের মার্চে নয় সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। নয় সদস্যের মধ্যে সাতজন ডেমোক্র্যাটিক বা বাইডেনের পার্টির। আর দুজন রিপাবলিক বা ট্রাম্পের পার্টির।
১৮ মাসে ওই কমিটি এক হাজারের বেশি প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। ৬ জানুয়ারির দাঙ্গা নিয়ে কংগ্রেসে ১০টি শুনানি হয়েছে। দাঙ্গা সংক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ পাতার নথিপত্র সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের গুরুত্ব
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিনিধি পরিষদের এই প্রতিবেদনের তেমন একটা নগদ ফল নেই। তবে, এ প্রতিবেদনের কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্টপ্রার্থী হওয়া নিয়ে নিজ পার্টিতে চরম বিরোধিতার মুখে পড়বেন ট্রাম্প। ইতোমধ্যে তার পার্টির শীর্ষ নেতারা ৬ জানুয়ারির দাঙ্গা নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে, এ প্রতিবেদনের কারণে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো মামলা শুরু করা না গেলেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান অন্য তদন্তে প্রভাব ফেলবে।
৬ জানুয়ারির দাঙ্গা, বেআইনিভাবে নিজ বাসভবনে সরকারের গোপন নথিপত্র রাখা নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা।
সুপারিশ
আগামীতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে নির্বাচনী আইন সংশোধনের প্রস্তাব অন্যতম। এই আইনটির ফাঁকফোঁকর নিয়েই ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল অস্বীকার করতে চেষ্ট করেন ট্রাম্প ও তার মিত্ররা।
অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে ইনসারেকশন অ্যাক্ট বা বিদ্রোহ আইন সংশোধন ও সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।