গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে অনড় ট্রাম্প
রয়টার্স
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৬ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে মেরিন ওয়ান থেকে নেমে হোয়াইট হাউসের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন, ২০ জানুয়ারি ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটবে না—এই অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়োজনে সামরিক পথ বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোস্যালে মঙ্গলবার পুনরায় এ ঘোষণা দেন।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া জোরালো হচ্ছে।
ট্রাম্পের লক্ষ্য ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব অধিগ্রহণ। এ বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এখানে কোনোভাবে পিছু হটা চলবে না—এ বিষয়ে সবাই একমত।”
এই অবস্থান জোরালো করতে তিনি একটি এআই চিত্র শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে গ্রিনল্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। অন্য একটি চিত্রে তাকে বিভিন্ন নেতার সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়, যেখানে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা জানতে পারবেন।”
তবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সুইজারল্যান্ডে বেশ কয়েকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, “আমরা এমন একটি সমাধান বের করব, যা নেটো এবং আমাদের উভয়ের জন্যই সন্তোষজনক হবে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের প্রকাশিত পোস্ট ঘিরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে ঠিক কী করতে চাইছেন।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্পের দাবিতে গ্রিনল্যান্ড ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাতিল করেননি, তাই ডেনমার্কও বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদা রয়টার্সকে বলেন, আর্কটিক ও নর্থ আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো চুক্তি হয়তো দ্বন্দ্ব নিরসনের পথ খুলে দিতে পারে।
ড্যাভোসে আলোচনার মঞ্চে ইউরোপীয় নেতারা মহাদেশীয় শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করলেও তারা ঠিক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপ কারও কাছে নতিস্বীকার করে না। তার ভাষায়, এই বিশ্বে আরও প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন একে একটি “অভূতপূর্ব পরিবর্তন” আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে “নতুন ধরনের ইউরোপীয় স্বাধীনতা”র প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি জানান, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শুল্ক আরোপ করলে তার বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও শুল্কের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বাভাবিক অংশ নয়।” তবে রাশিয়া গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারে—ট্রাম্পের এমন দাবিও নাকচ করেন তিনি।
অর্থনীতি ও বাজারে প্রভাব
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে। বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়েছে।
একই সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৭০০ ডলারে পৌঁছেছে।