প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:০৬ পিএম
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা। ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় ২৩ ডিসেম্বর। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুক্রবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে হামলাকারী ও তার সঙ্গে থাকা এক নারী। আহত হয়েছে আরও চার পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জন। ইসলামাবাদের রেড জোন হিসেবে পরিচিত আই-১০/৪ অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা পার্লামেন্ট হাউস, সুপ্রিম কোর্ট বা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবনে হামলা চালাতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
জিওনিউজ জানায়, হামলা সম্পর্কে ইসলামাবাদ পুলিশের ডিআইজি চাট্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রেড জোন এলাকায় পুলিশের বিশেষ বাহিনী ঈগল স্কোয়াড একটি গাড়ি তল্লাশির জন্য থামায়। তখন গাড়িতে থাকা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আবদেল হোসাইন নামের পুলিশের এক সদস্য নিহত হন। তা ছাড়া হামলাকারী ও তার সঙ্গী এক নারীও ঘটনাস্থলে নিহত হন।’
ডিআইজি চাট্টা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আমাদের পুলিশ একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে ইসলামাবাদকে রক্ষা করেছে। এ জন্য সাহসী পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই।’
একই ধরনের কথা শোনা গেছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহর কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান বড় ধরনের লজ্জা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সন্ত্রাসীরা যদি পার্লামেন্ট হাউস, সুপ্রিম কোর্ট বা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবনে হামলা চালাতে পারত, তা হতো বিপর্যয়। আমরা বড় বাঁচা বেঁচে গেছি।’
এদিকে, পাকিস্তান ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা আসাদ উমর। এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘খাইবার পাখতুনখাওয়াকে সন্ত্রাসীরা ইতোমধ্যে জাহান্নামে পরিণত করেছে। আমাদের অর্থনীতি এরই মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। তারপরও তারা (মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি জোট) কেন যে ক্ষমতায় বসে আছেন, তা বোধগম্য নয়।’
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আত্মঘাতী বোমা হামলা সম্পর্কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রতিবেদন চেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে।
গত রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের একটি সন্ত্রাস দমন বিভাগের (সিটিডি) কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ নেয় নিষিদ্ধ সংগঠন পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালিবান (টিটিপি) ও আরও কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যরা। নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে থাকা সেনাদের জিম্মি করে জঙ্গিরা।
সেনাদের মুক্তির বিনিময়ে নিজেদের নিরাপদে আফগানিস্তানে যাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানায় জঙ্গিরা। সরকার কয়েক দফায় একটা সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা চলে। তা ব্যর্থ হয়।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সেখানে কমান্ডো অভিযান শুরু করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি)। এতে সেখানে থাকা ৩৩ জঙ্গি নিহত হয়। পাশাপাশি এসএসজির দুই সদস্যও নিহত ও ১০ থেকে ১৫ সদস্য আহত হয়।