গ্রিনল্যান্ড ইস্যু
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৬ এএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শনিবার গ্রিনল্যান্ডে সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: রয়টার্স
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতাকারী আট মিত্র দেশের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে অবিহিত করেছেন। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। খবর বিবিসির
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তীতে এই শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ‘চুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এদিকে, শনিবার গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কে হাজার হাজার মানুষ প্রস্তাবিত মার্কিন অধিগ্রহণের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে।
বিবিসি জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড জনবসতিহীন কিন্তু সম্পদে সমৃদ্ধ এবং উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মধ্যে এর অবস্থান। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে পূর্ব সতর্কতা ব্যবস্থা এবং এই অঞ্চলে জাহাজ পর্যবেক্ষণের জন্য এটি উপযুক্ত স্থান।
ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্য তথাকথিত গোয়েন্দা অভিযানে গ্রিনল্যান্ডে অল্প সংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে। শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে নতুন শুল্ক ঘোষণা করে ট্রাম্প বলেন, ওই দেশগুলো ‘খুবই বিপজ্জনক খেলা’ খেলছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং বেঁচে থাকা’ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক জুনে বেড়ে ২৫ শতাংশ হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের ক্রয়সংক্রান্ত কোনো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে।
প্রতিক্রিয়ায় স্টারমার বলেন, ‘ন্যাটো মিত্রদের সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা অবশ্যই মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে শুল্ক হুমকি অগ্রহণযোগ্য... আমরা কোনও ভীতি প্রদর্শনে ভীত হব না।’
সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসন বলেন, ‘আমরা নিজেদেরকে ব্ল্যাকমেইল হতে দেব না। সুইডেন বর্তমানে একটি যৌথ প্রতিক্রিয়া খুঁজে বের করার জন্য অন্যান্য ইইউ দেশ, নরওয়ে এবং যুক্তরাজ্যের সাথে নিবিড় আলোচনা করছে।’
ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সর্বদা অত্যন্ত দৃঢ় থাকবে... যা অবশ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডের মধ্যেই শুরু হবে।’
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, এই হুমকি ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল।
এদিকে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রক্ষণশীল ইপিপি গ্রুপের প্রধান জার্মান এমপি ম্যানফ্রেড ওয়েবার বলেছেন, ‘ট্রাম্পের পদক্ষেপ গত বছর আলোচিত ইইউ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যা এখনও অনুমোদন করা হয়নি।’
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ডেনমার্কের ‘উত্তর অঞ্চলে যা করা দরকার তা করার মতো সম্পদ বা ক্ষমতা নেই’।
তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, গ্রিনল্যান্ডবাসীর জীবন ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় আরও নিরাপদ, শক্তিশালী এবং আরও সমৃদ্ধ’ হবে।