প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১৬ পিএম
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১৮ পিএম
মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের পালংখালীতে প্রবেশের পর ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর তোলা। ছবি: রয়টার্স
রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর ২০১৭ সালে চালানো গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। তাদের দাবি, অভিযোগকারী দেশ গাম্বিয়া এই অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) শুক্রবার রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানির প্রথম দিনে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। খবর বিবিসির
শুনানির সময় কো কো হ্লাইং সাফ জানিয়ে দেন, রাখাইনে সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ দেখে মিয়ানমার হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বাধ্য ছিল না। তার ভাষ্যমতে, তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ছিল একটি সামরিক পরিভাষা, যা মূলত বিদ্রোহ দমন বা সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
এই সপ্তাহের শুরুতে, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাউদা জালো আদালতে বলেছিলেন, মিয়ানমার ‘গণহত্যা নীতি’ ব্যবহার করে সংখ্যালঘু মুসলিম জনসংখ্যাকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয় এবং ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
জাতিসংঘের জারি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের তদন্ত করা উচিত।
২০২১ সালে বেসামরিক সরকার উৎখাতের পর থেকে সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা মিয়ানমার এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি- তাদের অভিযান জঙ্গি বা বিদ্রোহী হুমকিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মতে, দশ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে বাস করে - যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলির মধ্যে একটি।
মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি হ্লাইং শুক্রবার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত রাখাইন রাজ্যের ব্যক্তিদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রোহিঙ্গা সাক্ষীদের বক্তব্য শোনার জন্য তিন দিন সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত, তবে এই অধিবেশনগুলো জনসাধারণ এবং গণমাধ্যমের সম্প্রচার করা হবে না।
মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক আদালতে এমন গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হলো। এই মামলার রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের অবস্থান এবং রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হতে পারে।