আল জাজিরা
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১০ পিএম
গাজা শহরের ক্ষতিগ্রস্ত তাঁবুর পাশে বসে আছেন এক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নারী। ১৩ জানুয়ারি তোলা। ছবি: রয়টার্স
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নেওয়া পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
এ ধাপে গাজায় নিরস্ত্রীকরণ, অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন এবং পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশেষ এ দূত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনা এখন যুদ্ধবিরতি থেকে ‘নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠনের দিকে’ অগ্রসর হচ্ছে।
উইটকফ জানান, পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করা হবে। একই সঙ্গে ‘গাজার পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ’ নেওয়া হবে।
তিনি হামাসের কাছে পূর্ণ সহযোগিতার প্রত্যাশা করে হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে নিহত জিম্মিদের (ইসরায়েলি) মরদেহ ফেরত দিতে হবে। নইলে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল এ পর্যন্ত এক হাজার ১৯০ বারের বেশি লঙ্ঘন করেছে।
ওই সময় ইসরায়েল চার শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এমনকি জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে দেশটি।
হামাস এর আগে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করলেও উইটকফের ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম জানান, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি আগেই জানিয়েছিল, ট্রাম্পের পরিকল্পনার আওতায় তারা গাজায় প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে যেতে প্রস্তুত।
গাজা পরিচালনার জন্য যে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কথা বলা হচ্ছে, তার কাঠামো ও ক্ষমতা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, গাজার পুনর্গঠন নিয়েও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ ইসরায়েলের হামলায় গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বই এই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন আবু আজ্জুম।
তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বই এখানে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতির অবনতি হলে এ পরিকল্পনাগুলো বিলম্বিত এমনকি সম্পূর্ণ ভেস্তেও যেতে পারে।”
এদিকে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, তিনি সাবেক ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা র্যান গিভিলির মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন, যার লাশ এখনও গাজায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, র্যানের মরদেহ ফেরত আনা ইসরায়েল সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এতে আরও জানানো হয়, গাজা পরিচালনার জন্য টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনা এ চেষ্টাকে প্রভাবিত করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা—২০২৫ এর সেপ্টেম্বরে উত্থাপিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন এবং গাজায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব রয়েছে।
গত সপ্তাহে নেতানিয়াহু জানান, জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ ওই বোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন, যার দায়িত্ব হবে গাজায় প্রস্তাবিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক সরকারের কার্যক্রম তদারকি।