প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৭ এএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করেছে বলে আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বুধবার তিনি এ কথা জানান।
“ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা হয়েছে বলে আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনাও স্থগিত করা হয়েছে”, বলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বা ‘ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই।’
এমন বাস্তবতায় কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছুসংখ্যক সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বুধবার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ ঘেষণার পরাপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, অপর পক্ষের (ইরান) গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। পরিস্থিতি তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন, তবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা একেবারেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না।
এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প সম্ভাব্য হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য ইরান ইস্যুতে তার তুলনামূলক সংযত আচরণের ইঙ্গিতও বটে।
ইরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন একটি বিবৃতি পেয়েছে, যেখানে মৃত্যুদণ্ড বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।
তার ভাষ্য, ইরানের আশ্বাস পেয়েই থেমে যাবে না ওয়াশিংটন। প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মাইক হানা বলেন, প্রেসিডেন্টের (ট্রাম্প) বুধবারের এমন মন্তব্য ইরানের বিষয়ে তার সুর নরম করার ইঙ্গিত দেয়।
এই সংবাদকর্মী বলেন, “দেখা যাচ্ছে যে, তিনি (ট্রাম্প) এখনও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছ থেকে তিনি ব্রিফ পেয়েছেন, তবে আমরা যেসব বক্তব্য (ট্রাম্পের) শুনলাম, তা পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।”
ইরানের এ বিক্ষোভ গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। এ বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ১২ শিশু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ ১৪ জানুয়ারি নিহত ব্যক্তির এ সংখ্যা জানায়।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ তৈরি করে যেন বিক্ষোকে আরও উত্তাল না করতে পারে, সে লক্ষ্যেই ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে ইরানের বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে হতাহতের সঠিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যাচ্ছে না।
এ বিক্ষোভে উত্তেজনা বাড়াতে বিক্ষোভকারীদের উসকে দিচ্ছে বলে ইরান দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।