২০০০ থেকে ১২ হাজার প্রাণহানির দাবি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪২ এএম
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৪ পিএম
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ভেতরে-বাইরে অপরিসীম চাপের মুখে পুরো বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইরান। পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গত কয়েক দিন ধরে একটানা ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটির অভ্যন্তরে আসলে কী ঘটছে তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। নির্ভর করতে হচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রচারিত তথ্যের ওপর। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে যা প্রচার করা হচ্ছে, সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে কেবল সরকারের সমর্থনে সমাবেশের বর্ণনা। ফলে সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনা ঘটলেও তার সঠিক সংখ্যা বা তথ্য মিলছে না। একটি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা। আরেকটি সূত্র বলছে, বিক্ষোভে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১২ হাজার। দেশের ভেতরে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক চাপ সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে তেহরানের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘ,
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ইরানের ওপর ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত
করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স বলেছেন, ইরানের ইন্টারনেট
বন্ধের পদক্ষেপ তথ্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খাটো করার শামিল। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের
ডকুমেন্টেশনে প্রভাব পড়বে।
এদিকে
প্রথম দেশ হিসেবে ইরান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
অচল করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এর ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ প্রায়
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সেখানকার প্রকৃত অবস্থা জানা দুরূহ হয়ে পড়েছে। সামরিক জ্যামার ব্যবহার
করে স্যাটেলাইট সংযোগ বন্ধ করার এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে
দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান
ইস্যুতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়ন বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী
বিক্ষোভে নির্যাতন চালানো দায়ীদের বিরুদ্ধে ইইউ শিগগিরই আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।
তিনি বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে নিহতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
দি আমেরিকান
ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি) ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রশংসা
করে দেশটিতে সামরিক পদক্ষেপের জন্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের
প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থি লবি গ্রুপ ইমেইলে সাংবাদিকদের জানায়, ‘ইরানে বর্বর শাসকদের
বিরোধীরা গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথ দখল করে আছে।’
এদিকে
ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের ঘটনায়
ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে নেদারল্যান্ডস। তিনি বলেন, ইরানে রক্তাক্ত নির্যাতনের
ঘটনায় তিনি ব্যথিত। তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, গণহারে গ্রেপ্তার ও
ইন্টারনেট বন্ধের কথা উল্লেখ করেন বিবৃতিতে। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডে ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূতের
আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশের অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে দেশটি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়,
ইরানে বিক্ষোভে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া
মাদ্রিদে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে স্পেন সরকার। এ সময় দেশব্যাপী বিক্ষোভে নির্যাতন
চালানোর জন্য তার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল
আলবারেস বলেন, ইরানি রাষ্ট্রদূতের কাছে নিন্দা জানিয়েছে সরকার।
ইরানে
বিক্ষোভে বলপ্রয়োগের ঘটনায় নিন্দা জানাতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে বলে জানিয়েছে
ফিনল্যান্ড। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভ্যালটোনেন বলেন, নীরবে হত্যা ও নির্যাতন চালাতে
ইন্টারনেট বন্ধ করেছেন ইরানি শাসকেরা। এটা সহ্য করা হবে না। আমরা ইরানের জনগণের পাশে
আছি।
অন্যদিকে
তেহরানের ফরাসি দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় লোকবল সরিয়ে নিয়েছে ফ্রান্স। গত রবি ও সোমবার
তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত রয়েছেন এবং
দূতাবাসের কার্যক্রম সচল রয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেনে
দেশটির সিনেটর পেনি ওং। তিনি বলেন, ‘ইরানে আমাদের সহায়তা করার সামর্থ্য খুবই সীমিত।
আমি অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছাড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে
সোমবার সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন লাখ লাখ ইরানি। তারা আমেরিকা এবং ইসরায়েলবিরোধী
বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ে কষ্টে থাকলেও নিরাপত্তা ইস্যুতে তারা দেশের
পক্ষে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বিকল্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা
নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান। এ ছাড়া ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার পরিকল্পনা
করছে ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যারা ব্যবসা করবে, তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক
আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে নিরাপত্তা বিবেচনায় মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ
দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ভারতে গিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎস
বলেছেন, ‘আমার ধারণা, আমরা এখন এই সরকারের (ইরান) শেষ দিনগুলো বা শেষ সপ্তাহগুলো দেখছি।’
এদিকে ইরানে চলমান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলে ৩-৪ ডলার বেড়ে গেছে।
সোমবার
রাতে শান্ত ছিল ইরানের রাজপথ : গত দুই সপ্তাহের বেশি বিক্ষোভে উত্তাল থাকার পর সোমবার
বার্তা সংস্থা ফার্স দাবি করেছে, গতরাতে অনেকটাই শান্ত ছিল ইরানের রাজপথ। ফার্সের এক
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তেহরান, ইসফাহান, ইলাম ও বুশেহরসহ ইরানের বেশিরভাগ শহরের
‘রাত ছিল সহিংসতাহীন’। এতে বলা হয়, যদিও অধিকাংশ শহর শান্ত ছিল, তবুও নিরাপত্তা বাহিনীর
সদস্যদের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে। তারা জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন।
এতে দাবি করা হয়, সোমবারের সরকারপন্থি বিক্ষোভে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে।
বিক্ষোভে
২০০০ মানুষ নিহতÑসরকারি কর্মকর্তা : ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ
প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। গতকাল ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মী— উভয়পক্ষের মৃত্যুর
পেছনে ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা
বাহিনীর সদস্য— সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। এর আগে একটি
মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার
করা হয়েছে। এদিকে জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে বিক্ষোভে ১২
হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
এদিকে
গত বৃহস্পতিবার আটক বিক্ষোভকারী ইরফান সুলতানির (২৬) মৃত্যুদণ্ড আজ বুধবার কার্যকর
করা হবে বলে জানিয়েছে হেনগাও অরগানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস। জাতিসংঘের মানবাধিকার
প্রধান ভলকার টুর্ক বলেছেন, ইরানে সহিংসতায় তিনি খুবই মর্মাহত। এদিকে ইরানের সরকারবিরোধী
বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। তিনি ইরানের নারী ও
মেয়েদের ভূমিকার ওপর জোর দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি এ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র
পরীক্ষা নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরানÑআরাঘচি : ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
দমনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর কঠোর
হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন,
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, তবে যুদ্ধের জন্য তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার আলজাজিরা অ্যারাবিককে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, চলমান অস্থিরতার
মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান
এখন ‘সব ধরনের পরিস্থিতির’ জন্য প্রস্তুত এবং গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে
তাদের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
আরাঘচি
বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি সামরিক পদক্ষেপ পরীক্ষা করতে চায়, যা তারা আগেও করেছে, তবে আমরা
তার জন্য প্রস্তুত।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের ‘বিচক্ষণ পথ’ বেছে
নেবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ‘কিছু পক্ষ ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষায় ওয়াশিংটনকে
যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে।’
আরাঘচি
জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিক্ষোভের আগে ও পরে অব্যাহত
ছিল এবং এখনও চলছে। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো তেহরানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ধারণা এবং আমাদের দেশের বিরুদ্ধে হুমকিÑ দুটি
পরস্পরবিরোধী।’ তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, ‘হুমকি বা হুকুম ছাড়া আমরা পারমাণবিক আলোচনার
টেবিলে বসতে প্রস্তুত।’
এদিকে
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন,
ইরান প্রকাশ্যে যা বলছে, গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তার চেয়ে ‘পুরো ভিন্ন’ বার্তা পাঠাচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানে হামলার কথা ভাবলেও হোয়াইট হাউস তেহরানের
সামরিক আলোচনার প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
ইরানের
নেতৃত্বের আয়ু আর মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহÑজার্মান চ্যান্সেলর : ভারত সফরে গিয়ে গতকাল
মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎস বলেছেন, ‘আমার ধারণা, আমরা এখন এই সরকারের
শেষ দিনগুলো বা শেষ সপ্তাহগুলো দেখছি।’ তিনি ইরানি নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যখন কোনো সরকার কেবল সহিংসতার জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তখন বুঝতে হবে
তাদের শেষ সময় এসে গেছে। জনগণ এখন এই সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন,
ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের দিন ফুরিয়ে এসেছে। তার মতে, দেশটির সরকারের হাতে আর মাত্র
‘কয়েক দিন বা সপ্তাহ’ সময় আছে।
তিনি
আরও জানান, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্য সরকারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত
যোগাযোগ রাখছে জার্মানি। তিনি তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন বন্ধ
করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে
জার্মানি দ্বিমুখী আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
কারণ গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার সময় জার্মানির ভূমিকা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধূলিসাৎ করেছে।
ট্রাম্পের
হুমকি ও বাণিজ্যিক সমীকরণ : ইরানের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে মেৎস
কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এর আগেই সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া
হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করা হবে। নানা
বিধিনিষেধ সত্ত্বেও জার্মানি ইরানের সঙ্গে সীমিত পরিসরে বাণিজ্য বজায় রেখেছে। ইউরোপীয়
ইউনিয়নের মধ্যে বার্লিনই তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।
মার্কিন
নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র : ইরানে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে
সেদেশ ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জরুরি নিরাপত্তা
সতর্কবার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কাছে কোনো
ধরনের সহায়তার প্রত্যাশা না করেই ইরান ছাড়তে হবে। সোমবার জারি করা সতর্কবার্তায় তেহরানে
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস বলেছে, ‘এখনই ইরান ছাড়ুন।’ এতে মার্কিন নাগরিকদের
নিজ নিজ ঝুঁকি বিবেচনা করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে
জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে বাড়ল ৪ ডলার : ইরানে চলমান অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি
তেলের দাম আরও বেড়েছে। ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান
বার্কলেস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ইরানে চলমান অস্থিরতার কারণে
ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩-৪ ডলার বৃদ্ধি
পেয়েছে।’
জাপানি
আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজির কমোডিটিস কৌশলবিদরা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার
পর থেকেই তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে।
ইরানের
সঙ্গে ব্যবসা করলে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ, ঘোষণা ট্রাম্পের : ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক
সম্পর্কে যুক্ত দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্প। তার এই পদক্ষেপ ইরানে তিন সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আরেও বাড়তি
মাত্রা যোগ করবে। এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন
ট্রাম্প। ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এর পরেই রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব
আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।
সোমবার
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে
ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’ তিনি
আরও বলেন, ‘এই আদেশ চূড়ান্ত এবং তর্কাতীত।’
‘ইসরায়েলের
সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী গ্রুপ’ আটক : ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের
সঙ্গে যুক্ত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে আটক করেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদান থেকে
তাদের আটক করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে তারা ঢোকে এবং তাদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের
তৈরি অস্ত্র ও বিস্ফোরক ছিল। এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও গুপ্তহত্যায় ব্যবহারের পরিকল্পনা
ছিল। অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার আবদলরহিম মুসাভি অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র
ও ইসরায়েল সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসআইএলের (আইএসআইএস) সদস্যদের ইরানে হামলা চালানোর জন্য
মোতায়েন করছে। আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর
চিফ অব স্টাফ বলেছেন, গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ব্যর্থতার জেরেই
তাদের এই পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন কোনোভাবেই সহ্য
করবে না ইরান।’ তবে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া
দেয়নি।