হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৩ পিএম
বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
কোন দেশের পাসপোর্টধারী কত দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা পায়, তার মূল্যায়ন করে হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স। লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত এই সূচকের ২০২৬ সালেও শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর।এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগোলেও বৈশ্বিক মানদণ্ডে এদেশের পাসপোর্ট এখনো দুর্বল শ্রেণিতেই রয়ে গেছে।
চলতি বছর এই সূচকে বাংলাদেশ পাঁচ ধাপ এগিয়ে ৯৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৩৭টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন। আগের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০ নম্বরে।
বিশ্বে ভ্রমণ স্বাধীনতায় আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এশিয়ার দেশগুলো। সূচকে দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা বিশ্বের ২২৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ১৯২টিতে ভিসা ছাড়াই বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশের সুযোগ পান।
১৮৮টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
ইউরোপের শক্ত অবস্থান
তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ—ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৬টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা পান।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে আরও ১০টি ইউরোপীয় দেশ—অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে; যাদের স্কোর ১৮৫।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধা পান।
মধ্যপ্রাচ্যে আমিরাতের উত্থান
সূচকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উন্নতি করেছে দেশটি। গত দুই দশকে ১৪৯টি নতুন ভিসামুক্ত গন্তব্য যোগ করে সূচকে ৫৭ ধাপ এগিয়েছে আমিরাত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক তৎপরতা ও ভিসা উদারীকরণ নীতির ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
এক সময় সূচকের শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবার নেমে এসেছে ১০ম স্থানে। বর্তমানে মার্কিন পাসপোর্টধারীরা ১৭৯টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যেতে পারেন। গত এক বছরে দেশটি ৭টি গন্তব্য হারিয়েছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বার্ষিক পতনের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য। আটটি দেশ কমে বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিকরা ১৮২টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতন শুধু ভিসা নীতির বিষয় নয়; বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেয়।
তালিকার নিচে আফগানিস্তান
সূচকের একেবারে তলানিতে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির পাসপোর্টধারীরা মাত্র ২৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসায় প্রবেশ করতে পারেন। আফগানিস্তানের ঠিক ওপরে রয়েছে সিরিয়া (২৬টি দেশ) ও ইরাক (২৯টি দেশ)।
শীর্ষ ও সর্বনিম্ন দেশের মধ্যে ভ্রমণ স্বাধীনতার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৬৮টি দেশ।
অন্যান্য সূচক
হেনলি সূচকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আর্টন ক্যাপিটালও একটি বৈশ্বিক পাসপোর্ট ইনডেক্স প্রকাশ করে। তাদের গ্লোবাল পাসপোর্ট পাওয়ার র্যাংক ২০২৬ অনুযায়ী, ১৭৯ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে সিঙ্গাপুর ও স্পেন।
সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টধারী দেশগুলো
১. সিঙ্গাপুর (১৯২টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
২. জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া (১৮৮টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
৩. ডেনমার্ক, লক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড (১৮৬টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
৪. অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে (১৮৫টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
৫. হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া,স্লোভেনিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮৪টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
৬. ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ইসটোনিয়া, মালটা, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড (১৮৩টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
৭. অস্ট্রেলিয়া, লাতভিয়া, লিচেনস্টাইন, যুক্তরাজ্য (১৮২টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
৮. কানাডা, আইসল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া (১৮১টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
৯. মালেশিয়া, (১৮০টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)
১০. যুক্তরাজ্য (১৭৯টি দেশে ভ্রমণ স্বাধীনতা)