প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১২ এএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৪ এএম
ছবি: এপি
আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তার নিজস্ব নৈতিকতাই যথেষ্ট। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর সৃষ্ট আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে
দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে
আঘাত করতে চাই না।’ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি
বলেন, বিষয়টি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে তার ওপর।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে কঠোর সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেন। এর আগে গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায়। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। অভিযানের একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন বাহিনী।
সমালোচকদের মতে, এ ঘটনা জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সনদ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার
বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ কিংবা হামলার হুমকি দিতে পারে না। এই ঘটনার পর ট্রাম্পের বক্তব্য
ও অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ভেনেজুয়েলার ‘পরিচালনার
দায়িত্ব’ নেবে এবং দেশটির বিপুল জ্বালানি সম্পদ ব্যবহার করবে। যদিও তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলার
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
তবে একই সময়ে
মার্কিন সাময়িকী আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের
পরিকল্পনা অনুযায়ী না চললে দেলসি রদ্রিগেজকেও মাদুরোর চেয়ে ‘বড় মূল্য’ দিতে হতে পারে।
এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
পাশাপাশি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড
দখলের তৎপরতাও জোরদার করেছেন তিনি। এর আগে গত জুনে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায়
হামলার নির্দেশ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ান ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক আইন
বিশেষজ্ঞরা এসব বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের
আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক ইয়াসরা সুয়েদি আলজাজিরাকে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা
করার এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। এতে চীন বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোও তাইওয়ান
বা ইউক্রেনের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হতে পারে।
বিচারক ও আইনজীবীদের
স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত মার্গারেট স্যাটআর্থওয়েট বলেন, বিশ্ব সম্ভবত আবারও
একটি ‘সাম্রাজ্যবাদী যুগের’ দিকে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের
প্রতিপক্ষদের আরও আগ্রাসী করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়ান হার্ড
বলেন, লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ইতিহাস সুখকর নয়। চিলি, নিকারাগুয়া
ও হাইতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে এমন হস্তক্ষেপ করে বারবার অনুশোচনা
করেছে এবং এসব উদ্যোগ কখনোই টেকসই সুফল বয়ে আনেনি।