প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৬ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩১ পিএম
ফ্লোরিডার পাম বিচে গত ৩ জানুয়ারি ট্রাম্পের মার-আ-লাগো রিসোর্টে বসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পাশে রয়েছেন সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: ট্রাম্পের ট্রুথ সোশাল হ্যান্ডেল থেকে নেওয়া
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন কমান্ডো অভিযানে নাটকীয়ভাবে আটক করার পর এবার খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই রাজনৈতিক বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে।
ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তোলা হচ্ছে।
এই প্রস্তাব পাস হলে কংগ্রেসের আগাম অনুমতি ছাড়া ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন না।
রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল?
সিনেটে বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল ৫৩-৪৭ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে এবারের ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে একদম গায়ে গায়ে।
এর আগে নভেম্বরে একই ধরনের একটি প্রস্তাবে ট্রাম্পের নিজ দলের দুজন সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন, যার ফলে প্রস্তাবটি মাত্র দুই ভোটের ব্যবধানে (৪৯-৫১) হেরে যায়।
কেন্টাকির রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল বলেছেন, অন্তত দুজন রিপাবলিকান সেনেটর এবার তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। তাদের ভয়, মাদুরোকে ধরার পর এই অভিযান এখন একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ক্ষমতা বদলের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
‘আমাদের মিথ্যা বলা হয়েছে’
সেনেটরদের অনেকের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এতদিন অন্ধকারে রেখেছে। গত নভেম্বরে যখন ভোটাভুটি হয়েছিল, তখন প্রশাসনের কর্তারা বলেছিলেন তারা ভেনেজুয়েলায় কোনো হামলা বা সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন না। অথচ এর কয়েক দিন পরেই স্পেশাল ফোর্স পাঠিয়ে মাদুরোকে তুলে আনা হলো।
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর টিম কেইন বলেন, “প্রেসিডেন্ট এখন বলছেন তিনি ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবেন এবং ওখানকার তেল দখল করবেন। এটা কোনো সাধারণ অভিযান নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ।”
ট্রাম্পের যুক্তি: এটা যুদ্ধ নয়, গ্রেপ্তার!
হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের সমর্থক সেনেটররা দাবি করছেন, এটি কোনো সামরিক আগ্রাসন নয়, বরং এটি একটি ‘ল এনফোর্সমেন্ট’ বা অপরাধীকে ধরার অভিযান। যেহেতু মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র পাচারের মামলা আছে, তাই তাকে আটক করা প্রেসিডেন্টের আইনি অধিকারের মধ্যেই পড়ে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি মার্কিন সামরিক বাজেট ১ ট্রিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করতে চান, যা আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সামনে কঠিন পথ
সেনেটে এই প্রস্তাব পাস হওয়া হবে ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরাজয়। তবে এটি আইনে পরিণত হতে হলে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভেও পাস হতে হবে।
এছাড়া ট্রাম্প এতে ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সেই ভেটো কাটাতে হলে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন।
এই ভোটাভুটি নির্ধারণ করবে ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প
তার ‘সাম্রাজ্যবাদী অভিযান’ চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, নাকি কংগ্রেস আমেরিকার সাংবিধানিক
ক্ষমতা পুনরায় নিজের হাতে ফিরিয়ে নেবে।