× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাদুরো দম্পতি আটক: কোন পথে ভেনেজুয়েলা?

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৬ পিএম

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালানোর পর শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি সামরিক কমপ্লেক্সে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালানোর পর শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি সামরিক কমপ্লেক্সে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ছবি: এএফপি

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলায় এক শ্বাসরুদ্ধকর ও নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ভোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবির পর ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রেসিডেন্ট মাদুরো বা ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায় আছেন এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার এখনও জানে না বলে নিশ্চিত করেছেন। রদ্রিগেজ বলেন, সরকার তাদের উভয়েরই “তাৎক্ষণিক জীবিত থাকার প্রমাণ” দাবি করেছে।

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শনিবার জাতির সাংবাদিকদের সামনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। ছবি: রয়টার্স

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস খানেক ধরে বিভিন্ন ধরনের চাপে রাখার পর শনিবার স্থানীয় সময় ভোরের আগেই ‘অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা ও মাদক কারবারের’ অভিযোগে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আটক করে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদুরোকে বন্দি করে ভেনেজুয়েলার বাইরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকার একে “সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন” হিসেবে অভিহিত করে মাদুরো দম্পতির প্রাণের নিরাপত্তা ও প্রমাণের দাবি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারকারী মার্কিন বিশেষ অভিযান বাহিনীর সঙ্গে এফবিআই এজেন্টদের একটি দল ছিল।

মাদুরোকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা এখন চলছে। তাকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

মার্কিন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন মাদক প্রয়োগকারী প্রশাসন বছরের পর বছর ধরে মাদুরো ও ভেনেজুয়েলার কিছু শীর্ষ সামরিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য কাজ করছে। 

কারাকাসের লা কার্লোটা বিমান ঘাঁটিতে একটি পুড়ে যাওয়া সামরিক গাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছেন এক অগ্নিনির্বাপন কর্মী। ছবি: এএফপি  

রাতে শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযান

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসির কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার বর্ণনা দিয়েছেন।

শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ভেনেজুয়েলায় এই ‘বিশাল আকারের হামলা’ শুরু হয়। কয়েক মাসের উত্তেজনার পর পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানের খবর সোশাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হামলার সময় বিকট বিস্ফোরণ এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কারাকাসজুড়ে। 

মাদুরো সরকার অবিলম্বে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে সাধারণ জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানায়।

তবে বর্তমানে দেশটির শাসনভার কার হাতে রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভেনেজুয়েলার আইন অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতা গ্রহণের কথা থাকলেও, তিনি শুধু একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

সেখানে তিনি বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের অবস্থান জানি না। আমরা তাদের জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করছি।” 

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো কারাকাসে চীনা বিশেষ দূত কিউ জিয়াওকির নেতৃত্বাধীন এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক করেন। মিরাফ্লোরেস প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। মাদুরো একে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার করেছিলেন। তবে এর কিছু সময় পরই যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের অভিযানে তিনি সস্ত্রীক বন্দি হন।

চীন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এভাবেই বেইজিংয়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদুরোর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে।  

ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কারাকাসের কিছু রাস্তায় সশস্ত্র বেসামরিক মিলিশিয়া বাহিনীকে দেখা গেলেও শহরের বড় একটি অংশ জনশূন্য হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।

২১ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী কারমেন হিদালগো কাঁপতে কাঁপতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পুরো মাটি কেঁপে উঠেছিল। আমরা শুধু বিস্ফোরণ আর বিমানের শব্দ পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল বাতাস আমাদের গায়ে আছড়ে পড়ছে।”

কারাকাসের রাজপথ এখন এক অদ্ভুত আতঙ্কে থমকে আছে। মানুষ কথা বলছে খুব সাবধানে, কিন্তু ফার্মেসি আর সুপারমার্কেটগুলোর সামনে জমেছে দীর্ঘ লাইন। সাধারণ মানুষের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো বার্তা আর ভিডিওতে উপচে পড়লেও, পূর্ব কারাকাসের রাস্তায় নামা মানুষগুলো মূলত নিশ্চুপ।

একটি প্লাজার বাইরে এক নারী নিচু স্বরে বিবিসির সংবাদদাতাকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কি জানেন কী ঘটেছে?” তিনি তার স্নায়ুর সমস্যার জন্য ওষুধ কিনতে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকা ফার্মেসিটিও বন্ধ পেয়েছেন। তিনি বললেন, “দয়া করে আমার ভিডিও রেকর্ড করবেন না।”

পূর্ব কারাকাসের একটি বহুতল ভবনে বিবিসির সংবাদদাতা নিকোল কোলস্টারের অবস্থান। তিনি বলেন, “জানালার ফাঁক দিয়ে এক তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে আসছে, যা ২০১৭ সালের সেই বিখ্যাত বিক্ষোভের সময়কার টিয়ার গ্যাসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমার মা-ও সেই গন্ধ টের পাচ্ছেন।”

এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বন্দি হওয়ার খবর দেন, তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাশের ভবনগুলোর বারান্দায় উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেই চিৎকার স্থায়ী হয়েছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। সম্ভবত এক অজানা আশঙ্কা সেই আনন্দকে মুহূর্তেই গ্রাস করে নিয়েছে।

চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে এমন একটি সুপারমার্কেটও শনিবার সকালের অধিকাংশ সময় বন্ধ ছিল। বাইরে অসংখ্য মানুষ ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল—কখন শাটার উঠবে আর তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে পারবে। 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে এভাবে দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স

কেন এই অভিযান?

ট্রাম্পের পোস্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে মাদুরোর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে ‘নারকো-টেররিজম’ বা মাদক-সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। 

মার্কিন সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে নিশ্চিত করেছেন, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার বিচার হবে।

কারাকাসের আকাশে অন্তত সাতটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ দেখা গেছে। তবে হামলায় হতাহতের কোনো নিশ্চিত খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

২০২৬ সালের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছিল মার্কিন বাহিনী। 

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে তারা একটি ‘সশস্ত্র যুদ্ধে’ লিপ্ত। এই অভিযানের আগে ভেনেজুয়েলা উপকূলে গত কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তম মার্কিন নৌ-বহর মোতায়েন করা হয়েছিল। 

ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার মধ্যে গত ২৬ নভেম্বর মধ্যে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, ভেনেজুয়েলার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়ানোর মূল কারণ মাদক দমন নয়, বরং দেশটির তেলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। 

সিএনএনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলভাণ্ডার রয়েছে উল্লেখ করে গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, “তেলই এখানে মূল বিষয়। তাই এটা তেল নিয়ে দরকষাকষি। আমার বিশ্বাস এটাই ট্রাম্পের যুক্তি। তিনি ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র নিয়ে ভাবছেন না। আর মাদক কারবার নিয়ে তো নয়ই।”

পেত্রোর যুক্তি, ভেনেজুয়েলাকে বড় কোনো মাদক উৎপাদক দেশ হিসেবে ধরা হয়নি, এবং বৈশ্বিক মাদক কারবার তুলনামূলকভাবে খুব সামান্য অংশ ওই দেশ হয়ে যায়। 

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে, যা ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩০০ থেকে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। এই বিশাল মজুদ দেশটির পূর্বাঞ্চলের ওরিনোকো বেল্টে কেন্দ্রীভূত। যদিও তেলের ভাণ্ডার বিশাল, কিন্তু তা উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণের জটিলতা, অব্যবস্থাপনা এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি সেই তুলনায় কম উৎপাদন ও আয় করে। 

এখন প্রশ্ন হলো, এত তেল থাকার পরও দেশটি গরিব কেন? রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পেত্রোলিওস ডে ভেনেজুয়েলা এসএর (পিডিভিএসএ) অদক্ষতা ও দুর্নীতিই এর মূল কারণ। আবার দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই কোম্পানিটি কার্যকর হয়ে উঠতে পারছে না—রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে পশ্চিমা মিডিয়ার বাইরে গিয়ে বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান করলে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিশেষ নেতিবাচক প্রভাবও এর পেছনে কাজ করে। 

রয়টার্সেরই আরেক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যে অপরিশোধিত তেল বরাদ্দের জন্য অবিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে লেনদেনের ফলে ২০২০ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি রাজস্ব হারিয়েছে। 

মাদুরোর বিরোধীপক্ষে নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো পিডিভিএসএ’র বেসরকারিকরণের পক্ষে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে আগ্রহী। মাচাদোর যুক্তি, বিদেশি বিনিয়োগে উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু বিদেশি নিয়ন্ত্রণে গেলে দেশীয় শ্রমশক্তি ও প্রযুক্তি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় বলে মাদুরোর পক্ষের লোকজন রাজি নয়।   

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কী ভাবে

ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে আসা তথাকথিত হুমকি সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাব নিয়ে পরিচালিত জরিপগুলোর ফলাফল বেশ চমকপ্রদ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ, বিশেষ করে সিবিএস নিউজের একটি জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য খুব বড় কোনো হুমকি বলে মনে করেন না।

জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ মনে করেন ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য একটি ‘বড় হুমকি’। বিপরীতে, ৪৮ শতাংশ একে একটি ‘সামান্য হুমকি’ হিসেবে দেখেন এবং ৩৯ শতাংশ নাগরিক মনে করেন ভেনেজুয়েলা কোনো হুমকিই নয়।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অনীহা দেখা গেছে।

জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সরাসরি বিরোধী।

রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে একটি অংশ (বিশেষ করে ট্রাম্পের কট্টর অনুসারীরা) সামরিক পদক্ষেপের প্রতি কিছুটা নমনীয় হলেও, ডেমোক্র্যাট ও সাধারণ নাগরিকরা ঐতিহাসিকভাবেই অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বড় ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ভেনেজুয়েলা সংকটের চেয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য বেশি জরুরি।

মার্কিন জনসাধারণের একটি বড় অংশ ভেনেজুয়েলা নিয়ে সরকারের এই কঠোর অবস্থান বা সামরিক তৎপরতাকে খুব একটা প্রয়োজনীয় বা জনসমর্থিত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতিক্রিয়া

হোয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদুরোর বর্তমান অবস্থান জানানো হয়নি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এটি ভেনেজুয়েলার জন্য এক ‘নতুন ভোর’।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, ইইউ ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে কালাস জানান, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কারাকাসে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।  তিনি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন বারবার স্পষ্ট করেছে, মাদুরোর কোনো বৈধতা নেই এবং আমরা সবসময় একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার হস্তান্তরের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছি।

“যেকোনো পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে।”

ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত ইইউ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে এই ব্লকের “সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার” বলে জানান কালাস।

স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমন, সব পক্ষকে সংযত থাকা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি বর্তমান সংকট নিরসনে একটি শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। স্পেন জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে বসবাসরত ইতালীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য জড়িত নয়। তিনি বলেন “আমাদের সবার আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত।” 

এ নিয়ে “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমি মিত্রদের সঙ্গে কথা বলতে চাই,” বলেন স্টারমার। 

ভেনেজুয়েলার মিত্রদের অবস্থান

ভেনেজুয়েলার ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রধান মিত্রদের ভূমিকা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে নিকোলাস মাদুরো আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। পাশে ছিল আঞ্চলিকভাবে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু কিউবা ও নিকারাগুয়া। মাদুরো সরকারকে টিকিয়ে রাখতে এই দুই শক্তির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

মাদুরো সরকারের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিউবার গভীর প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পর কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল একে ‘ক্রিমিনাল অ্যাটাক’ বা অপরাধমূলক হামলা হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগার সরকার ঐতিহাসিকভাবেই মাদুরোর কট্টর সমর্থক এবং মার্কিন বিরোধী অবস্থানে অটল।

ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকায় রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র। ক্রেমলিন এই মার্কিন হামলাকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকটের সময় চীন বড় অংকের ঋণ ও বিনিয়োগ দিয়ে সহায়তা করেছে। মাদুরো নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগের দিনও তিনি কারাকাসে একটি চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। চীন সাধারণত এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের কড়া বিরোধী।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন শত্রু হওয়ার কারণে গত কয়েক বছরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইরান ভেনেজুয়েলাকে জ্বালানি তেল এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে। ইরানও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ব্রাজিল, কলম্বিয়া, চিলি ও মেক্সিকোর মতো বামপন্থী সরকারগুলো আগে ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ থাকলেও, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর তারা মাদুরোর সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছিল। তবে কলম্বিয়া বর্তমানে এই হামলার ফলে সম্ভাব্য ‘শরণার্থী সংকট’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ও সীমান্তে সতর্কতা জারি করেছে।

কারাকাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কমপ্লেক্সের পাশে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: এএফপি

ভেনেজুয়েলার সামনে কী

ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি করার পর দেশটির সামনে বেশ কিছু জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মাদুরো সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশটির সেনাবাহিনী। এখন পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভিযানের পর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তারা যদি মাদুরোর প্রতি অনুগত থাকে, তবে ক্ষমতার হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আলোচনা বা সমঝোতা ছাড়া তারা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো নিজেকে পশ্চিমা সমর্থিত বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছেন। যদিও তিনি ট্রাম্পের এই কৌশলকে সমর্থন করেছেন, কিন্তু ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ এবং অনেক বিরোধী দলীয় নেতা সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী। তারা আশঙ্কা করছেন, বিদেশিদের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

বিশেষজ্ঞরা একটি ভয়াবহ সংঘাত বা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করছেন। মাদুরোর দল ‘চ্যাভিসমো’ আন্দোলনের সমর্থক সংখ্যা সারা দেশে এখনও অনেক। যদি মাদুরো সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়, তবে তারা সশস্ত্র বিদ্রোহ করতে পারে। এতে করে ভেনেজুয়েলা দীর্ঘমেয়াদী সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার আইন অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের দায়িত্ব নেওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর শাসনকে ‘অবৈধ’ মনে করায় তারা হয়তো নতুন কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য চাপ দেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মাদুরো আটক হওয়ার পর তারা আর কোনো বড় সামরিক অভিযানের প্রয়োজন দেখছেন না।

এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এটি কি স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রের পথে ফিরবে, নাকি একটি ধ্বংসাত্মক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে—তা আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাবলির ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন?

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং লাতিন আমেরিকা বিষয়ক বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার সাবাতিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। 

তার মতে, গত ছয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার ভেতরে যে ধরনের গণ-অসন্তোষ বা বিদ্রোহের আশা করা হয়েছিল, তা ঘটেনি।

সাবাতিনি লক্ষ্য করেছেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের কারণগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। কখনো একে বলা হয়েছে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’, কখনো ‘মাদুরোকে অপসারণ’, আবার কখনো ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’।

তিনি মনে করেন, গত ছয় মাসের ক্রমাগত চাপ যখন মাদুরোকে সরাতে বা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন এই ধরনের একটি বড় সামরিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রায় ‘অনিবার্য’ হয়ে পড়েছিল।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এই হামলার বিরুদ্ধে তীব্র জনমত রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকরা ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী। এছাড়াও, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি হামলা চললে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী ভোটাভুটির প্রয়োজন হতে পারে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

সাবাতিনির মতে, মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়া হলেও সেখানে যে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “ধরে নিলাম শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হলো, কিন্তু সেটি যে গণতান্ত্রিক হবে তা একেবারেই স্পষ্ট নয়। বরং এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পর ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হতে পারে।”

সবশেষে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রেখেছেন—ডোনাল্ড ট্রাম্প কি সত্যিই ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে জড়িয়ে থাকতে আগ্রহী? তিনি প্রশ্ন করেন, “ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস কি সেই ধকল সইবার মতো মানসিক শক্তি রাখে?”  

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা