প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩০ পিএম
সুইজারল্যান্ডের ক্র্যানস-মন্টানার ‘লে কনস্টেলেশন’ বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর দুর্ঘটনাস্থলে একটি অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: আলজাজিরা
সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল পর্যটন শহর ক্রানস-মনতানার একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র গেতান ল্যাথিয়ন জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে ‘লে কনস্টেলেশন’ নামক একটি বারে আগুনের সূত্রপাত হয়। সে সময় সেখানে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ইংরেজি নববর্ষ বরণের উৎসবে মেতে ছিলেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের ভালাইস ক্যান্টনের পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডেরিক গিসলার দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অগ্নিকাণ্ডে কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
ভালাইস ক্যান্টনের অ্যাটর্নি জেনারেল বিট্রিস পিলুড জানিয়েছেন, আগুনের সঠিক কারণ নির্ণয় করতে তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এর পেছনে কোনো নাশকতামূলক হামলার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারলেও ইতালীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুইস পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪০ জন।
নিরাপত্তা প্রধান স্টিফেন গানজার জানান, এই রিসোর্টটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। হতাহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। নিউইয়র্ক থেকে আসা এক পর্যটক বারটি থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বেরিয়ে আসার ভিডিও ধারণ করেন। তিনি জানান, অন্ধকারের মধ্যে মানুষকে প্রাণভয়ে চিৎকার করে এদিক-ওদিক ছুটতে দেখা গেছে।
সুইস কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে বারটিতে প্রথম ধোঁয়া দেখা যায়। খবর পেয়েই পুলিশের টহল দল, দমকল বাহিনীর বিশাল একটি দল, হেলিকপ্টার এবং অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য ছিল আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া।
পুলিশ কমান্ডার গিসলার অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা বিধ্বস্ত। রাতের এই ভয়াবহ ঘটনায় আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত।’
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ‘লে কনস্টেলেশন’ বারের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৪০ জন। পুলিশ মুখপাত্র ল্যাথিয়ন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় ভেতরে কয়েকশ মানুষ অবস্থান করছিলেন।
জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে, দগ্ধ রোগীদের চাপে স্থানীয় হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। আঞ্চলিক কাউন্সিলর ম্যাথিয়াস রেনার্ড জানান, আহতদের অধিকাংশেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো (আইসিইউ) পূর্ণ হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ক্রানস-মনতানা এলাকাটি সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। সুইস আল্পসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই পর্যটন শহরটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বর্তমানে একটি জরুরি হেল্পলাইন ও সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে কর্তৃপক্ষ।