× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি: কী বলছে সোমালিয়া ও ফিলিস্তিন?

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:১৩ পিএম

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:৪৩ পিএম

সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি: কী বলছে সোমালিয়া ও ফিলিস্তিন?

‘বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত’ সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে সোমালিয়া। এই পদক্ষেপকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশটি।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শনিবার সোমালিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলি ওমর বলেন, “ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করব।”

প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েলের স্বীকৃতি

ব্রিটিশ শাসিত সোমালিল্যান্ড ১৯৬০ সালে স্বাধীন হয়ে ইতালিশাসিত সোমালিয়ার সঙ্গে একীভূত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা, গৃহযুদ্ধ ও কেন্দ্রীয় সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে সোমালিল্যান্ড একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে অবস্থিত এই ভূখণ্ডের রাজধানী হারগেইসা। 

জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলেও সোমালিল্যান্ডের নিজস্ব সরকার, সংবিধান, সংসদ, সেনাবাহিনী ও মুদ্রা রয়েছে। নিয়মিত নির্বাচন ও তুলনামূলক স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার কারণে অঞ্চলটি সোমালিয়ার অন্যান্য অংশের চেয়ে নিরাপদ ও সংগঠিত। 

লোহিত সাগর ও আডেন উপসাগরের কাছাকাছি অবস্থানের ফলে এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

ইসরায়েল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি প্রদানের ঘোষণা দেয়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পদক্ষেপকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর চেতনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে (সিরো) ইসরায়েল সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র?

সোমালিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর একটি গোপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ইসরায়েল এই স্বীকৃতি দিয়েছে। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সোমালিয়ার এই দাবিকে সমর্থন করেছে এবং একে একটি ‘বিপজ্জনক সীমা লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূরত্ব

ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তে আফ্রিকান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ইস্যুতে নেতানিয়াহুর থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলের এই পথ অনুসরণ করবেন না। সোমালিয়ার সরকার ট্রাম্পের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে।

অন্যদিকে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আরব লীগ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থা দুটির মতে, এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারপারসন মাহামুদ আলী ইউসুফ সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে যেকোনো উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “এটি সুদূরপ্রসারী প্রভাবসহ একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে”।

মহাদেশীয় ব্লকটি উল্লেখ করেছে, একটি দেশের স্বাধীনতার সময় পাওয়া সীমানার অস্পষ্টতা সম্পর্কে ১৯৬৪ সালের সিদ্ধান্তকে একটি মৌলিক নীতি হিসেবে দেখতে হবে। 

আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইতও আরব ও আফ্রিকান রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের উপর ইসরায়েলি আক্রমণকে উস্কানিমূলক আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলি স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

সোমালিল্যান্ডে উৎসব

আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা ও উত্তেজনা থাকলেও সোমালিল্যান্ডের রাজধানী হারগেইসায় বইছে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ ৩০ বছরের কূটনৈতিক একাকীত্ব ঘুচবে—এমন আশায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল করেছেন। এমনকি শহরের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি পতাকাও প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।

নেপথ্যের ইতিহাস

আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সোমালিয়া ও ইসরায়েলের বৈরিতা দীর্ঘদিনের। মূলত ইথিওপিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের ঐতিহাসিক সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্কের কারণে সোমালিয়া সব সময়ই ইসরায়েলকে সন্দেহের চোখে দেখেছে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় ইসরায়েল ইথিওপিয়াকে সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সোমালিয়া জোটবদ্ধ হয়ে ১৯৭৭ সালের ওগাদেন যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, যা কয়েক দশক ধরে গৃহযুদ্ধকে ইন্ধন জোগাতে সাহায্য করেছিল।

বর্তমানে লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্ব ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির কারণে সোমালিল্যান্ডকে নিয়ে এই নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমালিয়া সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, সোমালিল্যান্ড তাদের ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর কোনো পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না।

চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাসকেল বলেছিলেন, এই অঞ্চলে হুথিদের প্রভাব নিয়ে সোমালিয়া সরকারের সঙ্গে তাদের উদ্বেগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সোমালিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওমর ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন, ইসরায়েলের নীতির বিষয়ে দেশটির অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা