প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৩৩ পিএম
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী তে সেইহা (বামে) ও থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাতাফন নাকফানিট (ডানে) শনিবার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করার পর নথি বিনিময় ও করমর্দন করছেন। ছবি : এএফপি
কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ
সীমান্ত সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী
দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া।
দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে
এই ঘোষণা দেয়। দীর্ঘদিনের এই সীমান্ত বিরোধে গত কয়েক সপ্তাহে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ বেসামরিক নাগরিক।
অবিলম্বে যুদ্ধ
থামানোর ঘোষণা
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চুক্তি সইয়ের পর মুহূর্ত থেকেই কার্যকর হয়েছে এই যুদ্ধবিরতি। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা একমত হয়েছেন, বর্তমানে সেনারা সীমান্তে যে অবস্থানে রয়েছেন সেখানেই অবস্থান করবেন এবং নতুন করে কোনো সামরিক তৎপরতা চালানো হবে না। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতির আওতায় সব ধরনের ভারী অস্ত্র ব্যবহার এবং বেসামরিক জানমালের ওপর হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বন্দী মুক্তি
ও আস্থার সংকট
চুক্তির অন্যতম শর্ত
অনুযায়ী, সীমান্তে শান্তি বজায় থাকলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে থাইল্যান্ড তাদের হাতে
থাকা কম্বোডিয়ার ১৮ জন বন্দী সেনাকে মুক্তি দেবে। এছাড়া উত্তেজনা কমাতে দুই দেশই একে
অপরের বিরুদ্ধে কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করবে না বলে
প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো বেশ থমথমে।
আল জাজিরার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি চলেছে। এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি করেছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুত কয়েক লাখ মানুষ এখনো ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
তদারকিতে আসিয়ান,
আলোচনায় চীন
যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি
সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর
জোট- আসিয়ান। পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা সমাধানে দুই দেশ সরাসরি হটলাইনে যোগাযোগের ব্যবস্থা
রাখবে।
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে রবিবার চীনের ইউনানে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিরোধের মূলে যা আছে
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার
মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। শত বছরের পুরনো ঔপনিবেশিক সীমানা এবং
সীমান্তে অবস্থিত প্রাচীন মন্দিরগুলোর মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এক শতাব্দীরও
বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছে। এর আগে গত জুলাই মাসেও একবার যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু চলতি
মাসের শুরুতে তা পুনরায় ভেঙে গেলে নতুন করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়।