প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:১২ পিএম
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বন্ডাই সৈকতে ইহুদিদের হানুক্কা উৎসবের সময় বন্দুক-হামলার শিকারদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। ছবি: রয়টার্স
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে হামলাকারী বাবা–ছেলের মধ্যে বাবা সাজিদ আকরাম একজন ভারতীয় নাগরিক। ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। তবে ভারতে থাকা পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুবই সীমিত ছিল।
ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে জানিয়েছেন, সাজিদ আকরাম শেষবার ২০২২ সালে হায়দ্রাবাদে গিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি ছাত্রভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যান। এরপর বিশেষ কোনো কারণে মাত্র দুই–তিনবার ভারতে এসেছিলেন।
একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালে সাজিদের বাবা মারা গেলেও তিনি বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে ভারতে আসেননি। আরেক কর্মকর্তা জানান, সাজিদের বড় ভাই হায়দ্রাবাদে বসবাসকারী একজন চিকিৎসক। তাদের প্রয়াত বাবা ১৯৮৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন।
হায়দ্রাবাদ থেকে কমার্সে স্নাতক শেষ করে সাজিদ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সেখানে তিনি এক ইউরোপীয় নারীকে বিয়ে করেন। তিনি তার ভারতীয় পাসপোর্ট নিজের কাছেই রেখেছিলেন।
সাজিদের ছেলে নাবিদের জন্ম ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ায়। সে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। রবিবারের (১৪ ডিসেম্বর) হামলায় বাবার সঙ্গে নাবিদও অংশ নেয়। পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনার তদন্তে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কর্মকর্তারা একসঙ্গে কাজ করছেন। তেলেঙ্গানা পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতে থাকা পরিবার বাবা–ছেলের উগ্রবাদী চিন্তাধারা বা এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানত না। কী পরিস্থিতিতে তারা এমন হামলায় জড়াল, সে বিষয়েও পরিবারের কোনো ধারণা নেই।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পসি এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন অভিযুক্ত বাবা–ছেলে। গত রবিবার সিডনির বন্ডাই সৈকতে ইহুদিদের একটি উৎসবে তারা হামলা চালান। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। পুলিশের গুলিতে হামলাকারী সাজিদ আকরাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তদন্তে জানা গেছে, হামলার আগে গত মাসে সাজিদ ও নাবিদ ফিলিপিন্স ভ্রমণ করেছিলেন। তারা নভেম্বর মাসজুড়ে ফিলিপিন্সে ছিলেন এবং ২৮ নভেম্বর দাভাও থেকে ম্যানিলাগামী বিমানে করে সিডনির উদ্দেশে রওনা দেন।
এই সফর নিয়ে ফিলিপিন্সের অভিবাসন বিভাগ ও পুলিশ তদন্ত করছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার মার ল্যানিয়ন বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে অভিযুক্তরা ফিলিপিন্সে গিয়েছিলেন। তবে কেন সেখানে গিয়েছিলেন, কোথায় কোথায় ছিলেন—তা এখনও পরিষ্কার নয়।’
তদন্তকারীদের ধারণা, সেখানে তারা সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন। হামলাকারীদের গাড়ি থেকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস)-এর দুটি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের কাছ থেকে দুটি বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।