প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৬ পিএম
কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে থাই সামরিক বাহিনীর শনিবারের হামলায় কম্বোডিয়ার পুরসাত প্রদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি সেতু। ছবি : এএফপি
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে গোলাগুলি আর হামলা থামেনি। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও থাইল্যান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কম্বোডিয়ার সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি হয়নি।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি হয়নি। আমাদের বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাবে।’ অন্যদিকে কম্বোডিয়া জানিয়েছে, তারা থাইল্যান্ডের সঙ্গে সব সীমান্ত পারাপার আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে।
সীমান্তজুড়ে শনিবারও ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। থাইবাহিনী যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকায় রকেট নিক্ষেপ হয়েছে। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, কম্বোডিয়ার গোলাবর্ষণে অন্তত দুজন বেসামরিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন; তারা বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে দৌড়াচ্ছিলেন।
গত ৭ ডিসেম্বরের একটি সংঘর্ষ থেকেই এই নতুন দফার লড়াই শুরু হয়। ওই ঘটনায় দুজন থাই সেনা আহত হন। সেটিকে জুলাইয়ে হওয়া আগের যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলেও মনে করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দুই পক্ষ মিলিয়ে অন্তত দুই ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আর সীমান্তের দুই পাশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ঘরছাড়া।
শুক্রবার ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু সেই ঘোষণায় দুই দেশের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ ঠান্ডা। থাইল্যান্ড স্পষ্ট করে বলেছে, তারা কোনো চুক্তিতে যায়নি। কম্বোডিয়াও ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে সরাসরি কিছু বলেনি।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ‘বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়’। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মিত্রতা থাকা সত্ত্বেও এই মন্তব্যে থাই জনগণ হতাশ।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেট ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির কথা না বলে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়াকে অনুরোধ করেছেন, কারা প্রথম গুলি চালিয়েছে, তা যাচাই করতে।
এদিকে অনুতিন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমাদের দেশ ও মানুষের ওপর হুমকি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত থাইল্যান্ড সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে।’
দেশ দুটির এই সীমান্ত বিরোধের শিকড় অনেক পুরনো। ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের রেখা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। ১৯০৭ সালের একটি মানচিত্র আর ১৯৬২ সালের আন্তর্জাতিক আদালতের রায় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বিরোধই আজকের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পেছনে বড় কারণ।